ভারতে একদিনে রেকর্ড সাড়ে ৩ লক্ষাধিক করোনা শনাক্ত:মৃত্যু প্রায় ৩ হাজার

13

ভারতে একদিনে সাড়ে তিন লক্ষাধিক মানুষের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ভারতে তো বটেই, বিশ্বেও এই প্রথম কোনও একটি দেশে একদিনে এতো বেশি সংখ্যক মানুষের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হলো। গত বছর কোভিডের প্রথম ঢেউয়ে দেশটিতে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা কখনও এক লাখ পেরোয়নি। ২০২১ সালের ৫ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দৈনিক সংক্রমণ এক লাখ অতিক্রম করে। তার ১০ দিন পর, ১৫ এপ্রিল শনাক্ত ছাড়ায় দুই লাখের গণ্ডি। এর এক সপ্তাহের মাথায় এ সংখ্যা তিন লাখ ছাড়ায়, যা এরইমধ্যে সাড়ে তিন লাখ পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে।

২৬ এপ্রিল সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন করে তিন লাখ ৫২ হাজার ৯৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের পাশাপাশি দৈনিক মৃত্যুও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৮১২ জনের। সক্রিয় রোগীও বাড়তে বাড়তে ২৮ লাখ ছাড়িয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে সংক্রমণের হার পুরো মহামারি পর্বে সর্বোচ্চ। যত জনের করোনা পরীক্ষা হয়েছে তাদের প্রতি চার জনের মধ্যে এক জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের সংখ্যা এক কোটি ৭৩ লাখ ১৩ হাজার ১৬৩। এখন পর্যন্ত করোনায় এক লাখ ৯৫ হাজার জনের মৃত্যুর কথা রেকর্ড করা হয়েছে। শনাক্তের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই দেশটির অবস্থান।

গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার ২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। অর্থাৎ, যে সংখ্যক মানুষের পরীক্ষা হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রতি চার জনে একজনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

দৈনিক সংক্রমণ বৃদ্ধির জেরে সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সক্রিয় রোগী বেড়েছে এক লাখ ৩০ হাজার ৯০৭ জন। এ নিয়ে মোট সক্রিয় রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ লাখ ১৩ হাজার ৬৫৮ জন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রোগীদের পরিষেবা দেওয়ার পরিসর ক্রমেই কমে আসছে। অনেক ক্ষেত্রেই একই শয্যায় একাধিক রোগীকে শুয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। অক্সিজেনের অভাব সামাল দিতে মাঠে নেমেছে প্রশাসনও। অনেক জায়গাতেই অস্থায়ী কোভিড কেয়ার কেন্দ্র তৈরি করে পরিস্থিতি মোবাবিলার চেষ্টা চালাচ্ছে বিভিন্ন রাজ্যের সরকার।

এদিকে করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত ভারতে ‘শিগগিরই’ ভ্যাকসিন তৈরির উপকরণের পাশাপাশি ভেন্টিলেটর, চিকিৎসা, পরীক্ষা ও সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কোভিড মোকাবিলায় ভারতকে আর কী কী সহায়তা দেওয়া হবে হোয়াইট হাউসের এ সংক্রান্ত বিবৃতিতে সেটিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অনুমোদন না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যে তিন কোটি অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন মজুত আছে, সেখান থেকে ভারতকে সহায়তা দেওয়া হবে কিনা, সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অক্সফোর্ড/অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন তৈরিতে যেসব কাঁচামাল লাগে, ভারতে তার সরবরাহ নিশ্চিতে উদ্যোগী হয়েছে হোয়াইট হাউস।’