ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বন্ধ

24

পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি সনদ দেওয়া বন্ধ রাখায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা একেবারে কমে গেছে। বর্তমানে যে পেঁয়াজ আসছে সেগুলো গত ডিসেম্বরে অনুমোদিত। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ তথা কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে নতুন করে আমদানির অনুমতি বন্ধ রেখেছে সরকার। কৃষি বিভাগ নতুন করে আমদানির অনুমতি না দিলে অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ সনদ নবায়ন না করলে চলতি এপ্রিল মাসের পর ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা পুরোপুরি বন্ধ হবে।

 

কৃষি বিভাগ চাইছে এই মৌসুমে ভারত থেকে নতুন করে পেঁয়াজ না আসুক। কারণ দেশে উৎপাদিত নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু হয়েছে; আর সেগুলো চলবে আগামী আগস্ট পর্যন্ত। তত দিন পর্যন্ত কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

তবে রমজানে বাজার অস্থির হওয়ার শঙ্কায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য নতুন করে আবেদন করেছেন ব্যবসায়ীরা; প্রচুর আবেদন পড়েছে সনদ নবায়নের। কিন্তু সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা না থাকায় কৃষি বিভাগ নতুন অনুমোদন দিচ্ছে না।

 

আমদানির অনুমতি সনদ নিয়ে ভারত থেকে এসব পেঁয়াজ বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে দেশে পৌঁছায়। এক হিসাবে দেখা যায়, চলতি বছরের ২২ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ১৪ কর্মদিবসে মোট ২৮ হাজার ৮৮২ টন পেঁয়াজ দেশে এসেছে। অর্থাৎ দিনে দুই হাজার টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে।

 

জানা গেছে, প্রতিবছর বাংলাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদনের মৌসুমে ভারত সরকার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়। সেই পেঁয়াজ দেশে আসার পর বাংলাদেশি কৃষকরা উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পেরে লোকসানে পড়েন। সেই ধারাবাহিকতা এবারও ছিল; কিন্তু সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কৃষকদের সুরক্ষা দিতে এবং পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়ানো নিশ্চিত করতে একটি সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।

সেটি হলো, সরকার ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিলেও শুল্ক আরোপ করেছে। এবারই প্রথম ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক এবং ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এই শর্ত মেনে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম পড়ছিল কেজিতে ৪৭ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছিল ২৮ থেকে ৩২ টাকায়। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।