ভবন নির্মাণে অনিয়ম ধরতে বৈঠক শেষে মন্ত্রী যখন ব্রিফ করছিলেন তখন পাশে ঘুমাচ্ছিলেন রাজউক কর্মকর্তা

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  05:27 PM, 31 March 2019

আজাহার মাহমুদ/সুজা আহমেদ, ঢাকা: রাজধানীতে নকশা, অনুমোদন ও বিল্ডিং কোড মানা হয়নি- এমন হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে রাজউকের ২৪টি টিম মাঠে নামছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে এক কথা জানিয়েছেন।

এদিকে মন্ত্রী যখন ব্রিফ করছিলেন তখন পাশে বসেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তার ঘুমাচ্ছিলেন। তার এই ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার দুপুরে রাজউক অডিটোরিয়ামে এক বৈঠকে বসেন মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।এতে রাজউক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার বনানীর ১৭ নম্বর রোডের এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এবং ঢাকা শহরের বিদ্যমান ভবনগুলো বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আশু করণীয় বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে েই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘যেসব ভবন পরিকল্পনা নকশা অনুযায়ী করা হয়নি সেসব ভবনের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। নিয়মের বাইরে যেসব ভবন থাকবে সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ থেকে ২০০৮-এর পূর্ববর্তী সময়ে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা বা গ্যারেজ রাখার কোনো বিধান ছিল না। সেসব ভবনের জন্য নতুন করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।’

শ ম রেজাউল বলেন, আমাদের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হওয়ার পর আমরা এটা জনসম্মুখে জাতীয় পত্রিকায়, টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করব। কারণ দেশের মানুষের জানা দরকার অর্থলোভী মানুষরূপী যারা এভাবে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করে জানমালের নিরাপত্তা রক্ষা করেনি তাদের চেহারা দেশবাসীর দেখা উচিত।

তিনি বলেন, ‘রাজউকের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় সব রেকর্ড থাকতে হবে। যেসব রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছে না, মিসিং আছে সেই সব ভবনের বিষয়ে আমরা আবার পরিদর্শন করে রেকর্ডটা নথিভুক্ত করব।’

১ মে থেকে রাজউকের সব সেবা ডিজিটালাইজেশন হবে। এর মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি দূর হবে এবং রাজউক জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে জানান শ ম রেজাউল।

তিনি বলেন, ‘বিল্ডিংয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আগে আমরা শুধুমাত্র বিল্ডিং মালিক এবং ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতাম। কিন্তু এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব।’

রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাসহ ঢাকায় বিদ্যমান ভবনগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে দ্রুত করণীয় ঠিক করতে বৈঠক করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। সংবাদ সম্মেলনের সময় মন্ত্রীর ঠিক পেছনেই ঘুমাচ্ছিলেন রাজউকের এক কর্মকর্তা।

একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজউকের কর্মকাণ্ড নিয়ে যখন চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে তখন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে রাজউকের ওই কর্মকর্তার ঘুমানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মন্ত্রীর পেছনে ঘুমানো রাজউকের ওই কর্মকর্তার নাম আজহারুল ইসলাম খান। তিনি রাজউকের একজন সদস্য (এস্টেট ও ভূমি)।

বিষয়টি টেলিভিশন ক্যামেরার লাইভেও দেখা যায়। এ সময় ক্যামেরাম্যানরা অন্য কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেন যেন কেউ গিয়ে ওই কর্মকর্তার ঘুম ভাঙান।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজধানীতে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা বেড়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার বনানীর এফআর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ২৫ জন নিহত হন। আহত হন ১২০ জন। তাদের মধ্যে ৫৬ জন রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর অন্যরা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের গাফিলতির কারণে রাজধানীতে এফআর টাওয়ারের মতো অসংখ্য বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে।

 

বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন :