ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় আর ট্রেন থামবে না, আটক ১৪ জন

9
বাহ্মনবাড়িয়া স্টেশনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে আর কোন ট্রেন থামবে না। শুক্রবার স্টেশনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এ স্টেশনে যাত্রাবিরতি রয়েছে এমন সকল ট্রেনের যাত্রাবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। প্রতিদিন পূর্বাঞ্চল রেলপথের ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট এবং ঢাকা-নোয়াখারী রেলপথে চলাচলকারী ১৪টি আন্তঃনগর ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. শোয়েব আহমেদ জানান, পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে সকল আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি স্থগিত রাখা হবে। তবে মেইল ট্রেনের ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা আমাদের দেওয়া হয়নি। যারা আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কেটেছেন তাঁদেরকে টিকিটের মূল্য ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে মাদ্রাসা ছাত্রদের বিক্ষোভ থেকে সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদেরকে আটক করা হয়। তবে আটকদের নাম-পরিচয় জানায়নি পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম জানান, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদ এবং চট্টগ্রামে মাদ্রাসা ছাত্রের ওপর পুলিশের হামলার খবরে শুক্রবার দুপুর তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ছাত্ররা।

এ সময় তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, সিভিল সার্জনের কার্যালয় এবং জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, জেলা আনসার কমান্ডারের অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ বিক্ষোভের ঘটনায় আশিক (২০) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। তিনি জেলা সদরের দাতিয়ারা এলাকার সাগর মিয়ার ছেলে। এছাড়াও এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের ২নং ফাঁড়ির পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) নরে আলমসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে নূরে আলমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে ঢাকায় পাঠানো হয়।