বেপরোয়া হানিফ পরিবহনের চালক রহিম গ্রেফতার

13

এবিসি ডেস্ক:রাজশাহীর কাটাখালিতে বেপরোয়া হানিফ পরিববহনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১৭ জন নিহতের ঘটনায় একমাত্র আসামি হানিফ পরিবহনের চালক আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুর ২টার দিকে মহানগরীর উপকণ্ঠ বেলপুকুর থানার মাহিন্দ্র বাইপাস এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার চালকের নাম আবদুর রহিম। তিনি পুঠিয়া উপজেলার বাড়ইপাড়া এলাকার বাসিন্দা। আরও খবর>>রাজশাহীতে বাস-মাইক্রো-সিএনজি’র ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রাণ গেল ১৭ জনের

 

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দুপুর ২টার দিকে মহানগরীর উপকণ্ঠ বেলপুকুর থানার মাহিন্দ্র বাইপাস এলাকা থেকে হানিফ পরিবহনের চালক আবদুর রহিমকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে শুক্রবার রাতে কেটিসি হানিফ বাসের চালককে আসামি করে মামলা করে কাটাখালী থানার পুলিশ। এ মামলায় ওই বাসচালককে একমাত্র আসামি করা হয়।

শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের কাপাশিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আরএমপির মুখপাত্র এডিসি গোলাম রুহুল কুদ্দুস ও রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আব্দুর রোউফসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে হানিফ কেটিসি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকায় যাচ্ছিলো। রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে একটি হায়েস মাইক্রোবাস যাচ্ছিলো রাজশাহীর দিকে।

দুপুর পৌনে ২টার দিকে কাটাখালী থানার সামনে মাইক্রোবাসটি একটি ট্রাককে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় যাত্রীবাহী বাসটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

মাইক্রোবাসটি ছিটকে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লেগুনার ওপর পড়ে। মুহূর্তেই মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে।

কয়েক মিনিটের মধ্যেই মাইক্রোটি পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে যায়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর তিনটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও মাইক্রোবাসের চালক ছাড়া কাউকে জীবিত উদ্ধার করা যায়নি। মাইক্রোবাসটিতে চালকসহ মোট ১৮ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ১৭ জনই মারা গেছেন।

অন্যদিকে হানিফ পরিবহনের বাসটি মহাসড়কের উল্টো দিকে গিয়ে খাদে পড়ে যায়। সেখান থেকেও ৯ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেলে নেয়া হয়েছে। আরএমপি পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মাইক্রোবাস ও হানিফ পরিবহনের বাসটি ১৩০ কিলোমিটার গতিতে চলছিলো। মাইক্রোর আগুনে লেগুনাটিও ভস্মীভূত হয়। তবে সেখানে কোনো যাত্রী বা চালক ছিলেন না।