বেনাপোল স্থলবন্দরে সমস্যার শেষ নেই

28

>>খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার পণ্য
বেনাপোল প্রতিনিধি:সরকার বছরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় কররেও চাহিদা অনুযায়ি অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি বেনাপোল স্থলবন্দরে। নানা সমস্যায় জর্জরিত এই স্থলবন্দরে খোলা আকাশের নিচে রোদ বৃষ্টিতে নষ্ট হচেছ আমদানি রফতানিকৃত কোটি কোটি টাকার পণ্য। এরফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়িরা। অনেক আমদানি-রপ্তানীকারক এই বন্দরে ব্যবসা করার আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলশ্রুতিতে বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়ছে বন্দরে কাজ করে রুটি রুজি করা কয়েক হাজার মানুষ।
এদিকে জায়গা সংকটের কারণে বেড়েই চলেছে পণ্যজট। দুর্ভোগ বাড়ছে পথচারি ও বন্দর এলাকার মানুষের। ঘটছে দুর্ঘটনা। জায়গা ও ইকুপমেন্ট স্বল্পতা অবকাঠামোসহ বিভিন্ন কারণে বাধাগ্রস্ত আমদানি রফতানিকারী প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা বলছেন এখানে চরম অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। পণ্য আমদানি করে সঠিকভাবে সঠিক সময়ে হাতে পাওয়ার কোন গ্যারান্ট্রি নেই। যেকারণে সরকারও হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল। দেশ স্বাধীনের পর থেকে শুরু হয় আমদানি রফতানি। ২০০০ পরবর্তীতে ৩িনগুন বাড়ে আমদানি রফতানি। বাড়তে থাকে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ ইকুপমেন্ট সমস্যা। এর মধ্যে ২০১৫ সালের পর থেকে আমদানির তুলনায় রফতানি বাড়ে ৫গুন। বাড়তে থাকে রাজস্ব আয়। তবে থমকে দাড়ায় বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন। করোনার মধ্যে সচল হয় বেনাপোল পেট্টাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি। ট্রেনেও আসছে পণ্য। জায়গা শেড ইয়ার্ড ইকুপমেন্টসহ বিভিন্ন সমস্যা আমদানি রফতানি বাণিজ্যে সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা।
গত অর্থবছরে রাজস্ব আয় নেমেছে প্রায় অর্ধেকে। বন্দরের ৫৩ হাজার মে:টন পণ্য রাখার ধারণ ক্ষমতা থাকলেও লক্ষাধিক টন পণ্য রাখা হচ্ছে বন্দরে। ফলে সমস্যার বেড়াজালে আমদানি রফতানির সাথে সংশ্লিষ্টরা। ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালে রাখা হচ্ছে ট্রাক রাখার পরিবর্তে রাখা হচ্ছে আমদানিকৃত পণ্য। নেই কোন শেড ইয়ার্ড। কেন্টিন-সুপেয় পানীর ব্যবস্থা। নেই কোন হাসপাতাল। পাবলিক টয়লেটের অবস্থা শোচনীয়। ক্রেন ফরক্লিপ সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। বন্দর ও কাষ্টমসে একই কর্মস্থলে কর্মকতা কর্মচারীরা নিয়ম বহির্ভুতভাবে কর্মরত থাকায় অনিয়ম দুনীতি বাড়ছে। বন্দরের উন্নয়ন মন্থরগতি হলেও এসব কর্মকর্তাদের ভাগ্য উন্নয়ন ঘটছে বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা। অধিকাংশ দুর্নীতিবাজদের অপসারণের দাবিও জানান তারা।
খোলা আকাশের পণ্য রাখায় ধুলা কাদা পানিতে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ও মূল্যবান মালামাল। পানিতে ভিজে বাড়ছে ডেমারেজ। ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত। ভারতীয় বিএসএফসহ কিছু অসাধু বন্দর ও কাস্টম কর্তপক্ষের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ শ্রমিকদের স্থায়ী সমাধান চান তারা।
ট্রেনে ও ট্রাকে আসছে চাহিদার অতিরিক্ত পণ্য। নেই কন্টিনার টার্মিনালÑজায়গা স্বল্পতায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা। বন্দর উন্নয়নে পর্যাপ্ত জমি একোয়ারের দাবি তুলেছে ব্যবসায়ি নেতারা।
এদিকে রেলপথে পণ্য আমদানি বাড়লে কমবে খরচ, বাড়বে আয় এবং লাভবান হবে ব্যবসায়িরা। বেনাপোল রেল কন্টিনার টার্মিনাল নির্মানের ঘোষণা দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ বাদ জানান বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন সভাপতি মফিজুর রহমান সজন।
এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ভারত চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, এগোচ্ছে দেশ। বাড়ছে বাণিজ্য-সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থানের। বহিবিশ্বের কাছে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ভৌগলিক দিক থেকে বেনাপোলের গুরুত্ব বেশী। এজন্য বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতের সাথে বাণিজ্য বাড়ছে। তবে আমদানি ব্ড়ালেও জায়গা ও ইকুপমেন্ট স্বল্পতার কারণে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। ভারতের পেট্টাপোল বন্দরে আধুনিক মানের টার্মিনাল নির্মাণ হওয়ায় ওপারে কমেছে পণ্যজট। বেনাপোলে কমপক্ষে ৫শতাধিক একর জমি একোয়ার করে-বন্দর সম্প্রসারিত করতে হবে। বাড়াতে হবে জনবল ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন। ট্রেন কন্টিনার টার্মিনাল চালুর ব্যাপারে দু’দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের সাথে এসব বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ভারত ও বাংলাদেশ সরকার বেনাপোলের উন্নয়নে পজিটিভ বলেও মত দেন তিনি। তবে ঢিমেতালে নয়, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেনাপোলের উন্নয়ন হলে বিশ্বের মধ্যে এ বন্দর রোল মডেল হিসাবে পরিনত হবে। সরকারের বাড়বে কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়।
স্থলবন্দর-বেনাপোল উপ পরিচালক ট্রাফিক আব্দুল জলিল জানান, বন্দরের চাহিদার তুলনায় রাখা হচ্ছে অতিরিক্ত পণ্য। রয়েছে জায়গা ও ইকুপমেন্ট সমস্যা। সমস্যা নিরসনে জায়গা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কাজ চলছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।