বেনাপোলে ভারতীয় ট্রাকে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

36

>>দুই দশকে ৯ বার অগ্নিকান্ড, ক্ষতিপূরণ পায়নি কেউ
বেনাপোল প্রতিনিধি:বেনাপোল স্থলবন্দরে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অগ্নিকান্ডের কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ জানাবেন।
মঙ্গলবার (০৮জুন ) বিকাল ৫ টায় বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসানকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন হয়। কমিটিতে অনান্য সদস্যরা হলেন-উপজেলা প্রশাসন, কাস্টমস, বন্দর, পোর্টথানা পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স (ফায়ার সার্ভিস) কর্মকর্তা।
গত সোমবার সন্ধ্যা ৭ টায় বন্দরের ৩৫ নাম্বার পণ্যগারের সামনে সড়কের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এই ট্রাকটিতে আগুন ধরে মালামালসহ ট্রাকটি সম্পূর্ণ ভস্মিভুত হয়। পরে এক ঘন্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে গত দুই দশকে বেনাপোল বন্দরে ৯ বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্যবসায়ীদের প্রায় ১৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে নানান আইনী জটিলতায় এ পর্যন্ত কেউ ক্ষতিপূরণ পায়নি। আরও খবর>>বেনাপোল বন্দরে ব্লিচিং পাউডার ভর্তি ভারতীয় ট্রাক আগুনে পুড়ে ছাই

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বেনাপোল বন্দরে আমদানি পণ্যের ধারণ ক্ষমতা ৪৫ হাজার মে:টন। কিন্তু সেখানে সব সময় আমদানি পণ্য থাকে প্রায় দেড় লাখ মেঃটন। বন্দরে জায়গা সংকটে অনেক সময় সাধারণ পণ্যগারে কেমিক্যাল পণ্য রাখা হয়। এতেই আগুনের ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। আর যখন আগুন ধরে তখন বন্দরের পর্যাপ্ত জনবল ও সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় নেভানোর আগেই সব পুড়ে শেষ হয়ে যায়। সুরক্ষা ব্যবস্থা বাড়লে এই পথে ব্যবসায়ীরা আরো বেশি পণ্য আমদানিতে আগ্রহী হবেন। এসময় তিনি আরো জানান, তিন বছর আগে বন্দরের আগুনে তার ২৫ লাখ টাকার আমদানি পণ্য পুড়ে নষ্ট হয়। এ পর্যন্ত তিনি কোন ক্ষতি পূরণ পায়নি।
স্থানীয় আমদানি কারক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেনের অভিযোগ, পণ্যগারে জায়গার অভাবে খোলা আকাশের নিচে নিরাপত্তা হীনতার মধ্যে রাখা হচ্ছে মুল্যবান আমদানি পণ্য। এতে প্রায়ই চুরি হচ্ছে। প্রতিটি অগ্নিকান্ডের আগে বন্দরের পণ্যগার থেকে চুরি বেড়ে যায়। আর যখন চুরির পরিমাণ বেড়ে যায় তখন বাঁচতে বন্দরের স্টোর কেপাররা ইচ্ছা করেই পণ্য গুদামে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে প্রচার করে বিদ্যুতের শর্টসার্কিটে আগুন লেগেছে। ধামা চাপা পড়ে যায় চুরির ঘটনা। গত দুই দশকে এনিয়ে ৯ বার বড় ধরণের অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছে কয়েক’শ আমদানিকারক। বিভিন্ন আইনি জটিলতায় ক্ষতিপূরণ না পেয়ে ব্যবসা বন্ধ হয়েছে অনেকের।
বেনাপোল বন্দরের ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান জানান, এত বড় স্থলবন্দরে মাত্র ৪ জন জনবল নিয়ে তাকে কাজ করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনা ঘটলে আগুন নেভাতে বিলম্ব হয়। বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়ে লাভ হয়নি। জনবল বাড়লে আগুন দ্রুত নেভাতে পারলে ক্ষতির পরিমাণ কমবে।
বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় জানান, বন্দরে ফায়ার সার্ভিস অফিসে প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানোর বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আগে বন্দরে জায়গা সংকটের কারণে নির্দিষ্ট পণ্যগারে পণ্য নামানোর ক্ষেত্রে কিছুটা অনিয়ম হতো। তবে এখন নিয়ম মেনেই স্টোর কেপাররা পণ্য নামিয়ে থাকেন। বন্দরে পণ্য চুরি একেবারে নেই বলেলে চলে। আগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যেন ক্ষতি পূরণ পায়, তার জন্য চেষ্টা চলছে।
সর্বশেষ ভারতীয় ট্রাকে আগুনের ঘটনায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান রয়েছেন বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান। কমিটিতে অনান্যরা হলেন, কাস্টমস, বন্দর, উপজেলা প্রশাসন, সিভিল ডিফেন্স ও পোর্ট থানা পুলিশ। আপাতত ধারণা করা হচ্ছে ব্লিচিং পাউডারে পানি পড়ে তেজক্রিয়া হয়ে আগুন ধরেছে। তবে তদন্ত শেষে অগ্নিকান্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ জানানো হবে।