বেনাপোলে আগুনে পুড়লো ১০ দোকান:দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্তরা

11

বেনাপোল প্রতিনিধি:বন্দরনগরী বেনাপোলের চুড়িপট্টিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কসমেটিকস, গার্মেন্টস ও মুদিসহ ১০টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে কয়েক কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার (১৭ জুলাই) ভোর ৬টার দিকে চুড়িপট্টি মার্কেটের একটি চায়ের দোকান থেকে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে পাশের মার্কেটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দুই ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময়ের মধ্যে ১০টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আযহাকে সামনে করে দোকানপাট পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এমন সময় আগুন লাগে, যখন সব দোকানপাট বন্ধ ছিল। যেকারণে কোন মালামাল সরানোও সম্ভব হয়নি।
ব্যবসায়ী ও রজনী বীজ ভান্ডারের মালিক ছলেমান ও স্থানীয়রা জানান, ঈদবাজার ধরার জন্য নতুন কাপড় তুলেছিলেন দোকানীরা।
দোকানদার আবু রায়হান বলেন, তার দোকানে প্রায় ২৫ লাখ টাকার কসমেটিকস ছিল। ঈদ উপলক্ষে আরো দশ লাখ টাকার মতো কসমেটিকস তুলেছিলেন। ব্যাংক লোন রয়েছে। সব শেষ হয়ে গেছে। এখন কোথা থেকে কীভাবে ধার পরিশোধ করবেন ভেবে পাচ্ছেন না তিনি।
ফলের আড়তদার হজরত আলী জানান, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সবজি ও ফল জাতীয় পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করতেন। ব্যবসায়ীদের কাছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পাবেন তিনি। এসব হিসাব খাতায় লেখা ছিল। আগুনে সেই খাতা পুড়ে গেছে।
বেনাপোল বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান জানান, শনিবার ভোর ছয়টার দিকে চুড়িপট্টির মধ্যে তোতা মিয়ার চায়ের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে বেনাপোল ফায়ার সার্ভিসের দল এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু তার আগেই সব পুড়ে শেষ হয়ে যায়। খুব ভোরে আগুন লাগায় অনেক দোকানি সেখানে পৌঁছাতে পারেননি।
বেনাপোল ফায়ার স্টেশনের অফিসার ইনচার্জ রতনকুমার জানান, তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। কীভাবে আগুন লাগলো তা তদন্ত না করে বলা যাবে না। তবে তাদের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত। আগুনে দশটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি দোকান একেবারে ছাই হয়ে গেছে।
সবমিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো জরুরী-দাবি সচেতন মহলের।