বেড়ি বাঁধ উপচে পানিতে ভাসছে আমতলী পৌরশহর

22

বৃষ্টি ও দমকা বাতাসে পায়রা নদীর তীরবর্তী উপকূলীয় জনপদ বরগুনার আমতলী উপজেলার মানুষ। নদী সংলগ্ন এ উপজেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা আমতলী পৌরসভা ও কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে। বেড়ি বাঁধ উপচে আমতলী পৌরশহর পানি ঢুকে পড়েছে। আমতলী পৌরসভার পশিচম মাথা লঞ্চঘাট, কাঠের বাজার তলিয়ে গেছে।

বুধবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে দমকা বাতাস বইছে। প্রকৃতি তার অন্ধকার রূপ ধারণ করেছে। রাত থেকে বিদ্যুৎ নেই। এসবের কারণে আতঙ্কে রয়েছে উপকূলীয় জনপদের এ উপজেলার মানুষ।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের (হিন্দু) পঞ্জিকানুযায়ী মঙ্গলবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে পূর্ণিমা শুরু হয়ে আজ বুধবার বিকেল ৫ টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত পূর্ণিমা থাকবে। ইহা বুদ্ধ পূর্ণিমা নামে পরিচিত। পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদের আর্কষণে পৃথিবীতে পানি বেড়ে যায়।

আজ বুধবারের ভরা পূর্ণিমা ও ইয়াসের কারণে পায়রা নদীর জোয়ার আরো বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। উপকূলীয় অঞ্চলের নড়বড়ে বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর উত্তাল ঢেউয়ের পানি দেখে আতঙ্কে রয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ।

দীর্ঘদিন ধরে এ উপকূলীয় জনপদের মানুষ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। পৌরসভাসহ আশেপাশের কয়েক ইউনিয়নের গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ। সংকট জনক অবস্থায় রয়েছে উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা গ্রামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রেম হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে পানির তোড়ে যে ভাবে বেড়ি বাঁধ ভাংগতেছে তাতে আজ বিকালের মধ্যে বেড়িবাধ মেরামত না করলে চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা ঘটখালী গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়বে।

চাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান বাদল মুঠোফোনে বলেন, বিকালের মধ্যে বেড়ি বাধ মেরামত না করলে বাধ ভেঙে দুই গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি উঠে তলিয়ে যাবে।

এছাড়া পায়রা নদীতে বিপদসীমার ৬২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউপির বালিয়াতলী, আরপাঙ্গাশিয়া, আমতলী সদর ইউপির নয়াভাঙ্গুলী, আমতলী পৌরসভার ৮নং ও ৯ নং ওর্য়াড, ফেরিঘাট শম্মানঘাটা, আমুয়ার চর, চাওড়া ইউপির বৈঠাকাটা, ঘটখালী, গুলিশাখালী ইউপির আঙ্গুলকাটা, নাইয়া পাড়া কলাগাছিয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ি বাধের বাইরে বসবাসরত ১৫০০ পরিবার জোয়ারে পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব বাড়িরে পানিতে থই থই করছে।

হালকা বাতাসের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপকূলীয় অঞ্চলে। জানা যায়, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। পায়রা নদী বিক্ষুব্ধ অবস্থায় রয়েছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থান করা সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান বলেন, এ উপজেলায় বেড়িবাঁধের বাহিরে বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে অথবা সাইক্লোন সেল্টারে নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৈঠাকাটা বড়িবাঁধটি অত্যাধিক ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরীভাবে মেরামত করার জন্য বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, জোয়ারের পানিতে প্লাবিত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অবস্থা পরিদর্শন করে তাদের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।