বীরত্বপুর্ণ কর্মকান্ডের জন্য পদক পেলেন বিজিবি’র ৫৯ সদস্য

41

এবিসি ডেস্ক:বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি’র বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ২০২০ সালে বীরত্ব ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চারটি ক্যাটাগরিতে ৫৯ জনকে পদক প্রদান করা হয়েছে। আজ বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরের মাল্টিপারপাস সেডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি। তিনি পদকপ্রাপ্তদের পদক পরিয়ে দেন। আরও খবর>>থার্টিফার্স্টে হুমকি নেই তবু প্রস্তুত নিরাপত্তা বাহিনী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে ১০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক (বিজিবিএম), ২০ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক (পিবিজিএম), ১০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক সেবা (বিজিবিএমএস) এবং ১৯ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক সেবা (পিজিবিএমএস) প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, দেশের সীমান্তরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ও মহান দায়িত্ব বিজিবি’র ওপর ন্যস্ত। নানান সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সীমান্তের নিরাপত্তারক্ষা, চোরাচালান, মাদকপাচার ও নারী-শিশুপাচার রোধে বিজিবি’র সফলতা প্রশংসনীয়। বিশেষ করে ইয়াবা, ফেনসিডিল এবং অন্যান্য মাদকপাচার রোধে বিজিবি বিশেষ কৃতিত্ব দেখাতে সক্ষম হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলারক্ষাসহ দেশ গঠনমূলক কাজেও বিজিবি প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিজিবি’র সার্বিক কল্যাণে ও বিজিবিকে একটি আধুনিক বর্ডার ফোর্স হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিজিবি’র সাংগঠনিক কাঠামোতে সংযোজন এনে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ও জনবল বৃদ্ধির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বিজিবি এয়ার উইং উদ্বোধন এবং দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার সংযোজনের মধ্য দিয়ে বিজিবিকে একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিজিবি’র সকলস্তরের সদস্যদের কল্যাণের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে বিজিবি’র আভিযানিক কার্যক্রমে আরও গতি আসবে এবং অধিক সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এসময় বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতে এই সফলতা আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এরআগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম, বিজিবিএম (বার), এনডিসি, পিএসসি। বক্তৃতার শুরুতেই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় বিজিবি আজ ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এই বাহিনীতে আভিযানিক ক্ষেত্রে সংযোজিত হয়েছে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার, যুগোপযোগী ও কার্যকরী ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র, আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি), রায়ট কন্ট্রোল ভেহিক্যাল, অল টেরেইন ভেহিক্যাল, উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন হাইস্পিড বোট, ইন্টারসেপ্টর বোট ও ইউটিলিটি বোট ইত্যাদিসহ অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি। এছাড়া ভারত ও মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের প্রায় ৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা ‘স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’ এর আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিজিবি’র আভিযানিক কার্যক্রমকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে যশোরে একটি অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টার ডিজাস্টার রিকভারি সাইট স্থাপন করা হয়েছে। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিজিবি সদস্যদের পোশাক, আবাসন, বেতন ভাতা বৃদ্ধিসহ প্রভৃতি উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এছাড়া সর্বক্ষেত্রে বিজিবি’র উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। এজন্য বিজিবি’র প্রতিটি সদস্যের পক্ষ থেকে বিজিবি মহাপরিচালক সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সম্মানিত সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, বিজিবি’র সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, সৈনিক ও বেসামরিক কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।