বিশ্বে জনসংখ্যা ৮শ কোটি

জনসংখ্যার দিক থেকে ২০২৩ সালে চীনকে টপকে যাবে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:31 PM, 15 November 2022
বিশ্বে বাস করছে ৮শ কোটি মানুষ

বিশ্বের জনসংখ্যা ৮০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করলো মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর)। জাতিসংঘের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০২৩ সাল নাগাদ ভারত জনসংখ্যার দিক থেকে চীনকে ছাড়িয়ে যাবে এবং বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ হবে এটি।

 

জাতিসংঘ বলছে, ৭০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করার মাত্র ১১ বছর পর বিশ্বের জনসংখ্যা ৮০০ কোটিতে পৌঁছালো। এরপর ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা হবে ৮৫০ কোটি এবং ২০৫০ সালে পৌঁছাবে ৯৭০ কোটিতে। তাছাড়া ২০৮০ সালে এই জনসংখ্যা এক হাজার কোটির মাইলফলক অতিক্রম করবে।

তবে আগামীতে ৯০০ কোটিতে পৌঁছতে ১৫ বছর সময় লাগতে পারে বলছে, সংস্থাটি।

বিশ্বের মানুষের সংখ্যা নির্ভুলভাবে গণনা করা কঠিন কাজ। তবে জাতিসংঘ বলছে, ১৫ নভেম্বর, জনসংখ্যা ৮০০ কোটিতে পৌঁছার তথ্যটি একটি সেরা অনুমান।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি মূলত মৃত্যুহার হ্রাসের কারণে হয়। অন্যদিকে, জন্মহার বৃদ্ধির কারণেও জনসংখ্যা বাড়ে। এছাড়া গড় আয়ু বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে এতে। বিশ্বব্যাপী, ২০১৯ সালে মানুষের গড় আয়ু ছিলো ৭২ দশমিক ৮ শতাংশ। মৃত্যুহার আরো হ্রাসের ফলে বিশ্বব্যাপী গড় আয়ু প্রায় ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ হবে ২০৫০ সালে।

জনসংখ্যার পরিমাপক হিসেবে মানুষের গড় আয়ু, জন্মহার ও মৃত্যুহার নির্ণায়ক হিসেবে কাজ করলেও এবার অভিবাসনও জনসংখ্যা পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠেছে।

২০২২ সালের পরিসংখ্যানে সর্বাধিক জনবহুল দেশের দুটিই এশিয়ায়। যেখানে বিশ্বের জনসংখ্যার ২৯ শতাংশ বসবাস করে। শুধু চীন ও ভারতেই বাস করে ১০০ কোটি ৪০ লাখ করে বেশি মানুষ। তবে জনসংখ্যার দিক থেকে চীনকে ২০২৩ সালে ছাড়িয়ে যাবে ভারত।

আগামী কয়েক দশকে চীনে জনসংখ্যা আরো হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে এক শিশু নীতি চালু ছিলো।

২০২০ সালে জাতিসংঘ জানায়, ১৯৫০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ১৯৫০ সালে যেখানে একজন নারীর সন্তান জন্মদানের হার ছিলো গড়ে ৫ সেখানে বর্তমানে তা নেমে ২ দশমিক ৩ শতাংশে। ২০৫০ সালে সন্তান জন্মদানের হার নেমে আসবে ২ দশমিক ১ শতাংশে।

তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রধান নাটালিয়া কানেম বলেন, ৮০০ কোটি মানুষ মানবসভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। প্রত্যাশিত গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং মা ও শিশুমৃত্যু কমে আসার প্রশংসাও করেন তিনি।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমাদের বৈচিত্র্যময়তাকে উদযাপন করতে হবে এবং মানবীয় বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্যখাতে অগ্রগতির কারণে বিস্মিত হওয়ার একটি উপলক্ষ তৈরি হয়েছে কারণ আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নাটকীয়ভাবে মা ও শিশু মৃত্যুহার কমেছে। তিনি আরো বলেন, একই সঙ্গে আমাদের পৃথিবীর সুরক্ষায় একে অপরের প্রতি দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।

সূত্র: বিবিসি, ইউএসএ টুডে

আন্তর্জাতিক

আপনার মতামত লিখুন :