বিশ্বের অনন্ত দেড়শ’ মিডিয়ায় সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্তার খবর

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  02:41 PM, 21 May 2021

অনন্ত ৪ জন মন্ত্রীর সুযোগ ছিল ‘সাংবাদিক রোজিনা’ ইস্যুকে তাৎক্ষনিক নিস্পত্তির! ৬ ঘন্টা হেনস্তার পর তাকে যখন শাহবাগ থানায় নেয়া হয় তখনো কোন মামলা হয়নি। কমপক্ষে ১০ ঘন্টা পর অকার্যকর আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ সময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও সর্বশেষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় চাইলে পারস্পারিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিস্পত্তি হতে পারতো। আরও খবর>>বিশ্ব মিডিয়ায় সাংবাদিক রোজিনাকে গ্রেফতারের খবর

আইনটিকে অকার্যকর বলছি, কারণ এটি ১৯২৩ সালে ব্রিটিশের করা আইন।
মন্ত্রী মহোদয়রা চুপ থাকার কারণে দেড় শতাধিক বিশ্ব মিডিয়ায় অনুসন্ধ্যানি সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেফতারের খবর প্রচার করেছে।

এরফলে বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজ সংকট তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি ভুলের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থার কাছে তাকে প্রশ্নের মুখোমুখী হতে হবে। আরও খবর>>সাংবাদিক রোজিনা মিথ্যা মামলায় কারাগারে:প্রতিবাদের ঝড়

এঘটনায় জাতিসংঘের মহাসচিব পর্যন্ত নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।
তারপর বর্তমান সরকার গণমাধ্যম সংক্রান্ত ডিজিটাল আইন প্রণয়ন ও কার্যকর করেছেন। এই আইন পাশের মধ্যদিয়ে পুর্বের আইনটি অটোমেটিক নিস্ক্রিয় বা অকার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হয়।
তাছাড়া ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’-এ কোন গণমাধ্যম কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে সাজা দেয়ার সুযোগ নেই।
আমলারা ভুল করতে পারেন আবার গোমর ফাঁসের ভয়ে কারোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতেই পারেন কিন্তু জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ ক্ষমতাধর মন্ত্রী এমপিদের কাজ তা অঙ্কুরেই রুখে দেয়া। সেই কাজটি মন্ত্রী মহোদয়রা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
যার খেসারত গুনতে হবে গোটা বাংলাদেশকে।
একি আমলা নির্ভরতা নাকি বিচক্ষণতার অভাব তা আমার বোধগম্য নয়।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে গোটা বিশ্বে যখন তখন তোলপাড় চলছে তখন

সাংবাদিক রোজিনাকে জামিন মঞ্জুর না করে শুনানীর জন্য রাখা হলো। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কোন মন্তব্য করবো না। তবে আমজনতার পার্লস বুঝবেন না-তা কী করে হয় ? সবই তো জনগণের জন্য এবং যারা সরকারি চাকরি করেন তাদের বেতন ভাতাসহ বিলাশী জীবন যাপনের টাকা জনগণের পকেট থেকে আসে। সুতরাং জনগণের চাকরদের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রতিদিনের কর্ম পরিচালনা করা উচিত।
আজ গোটা বিশ্বে বাংলাদেশের যে ইমেজ সংকট হলো তার দায় কে নেবে ?
আর একটি বিষয়, সব সময় সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রী-এমপিসহ জনপ্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকেন কেন ? এক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এই ছোট খাটো বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় কী আছে নাকি থাকে ?
ছোট খাটো বলছি, কারণ রোজিনা ইস্যুটি প্রথমে বড় কোন ঘটনা ছিল না। বড় ঘটনায় রুপ নিলো তখন যখন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বহু চেষ্টা করেও কোন সুরাহা করতে পারলেন না। অর্থাৎ সরকারের যাদের হাতে ক্ষমতা ছিল তারা রেসপন্ডস করেননি।
তারপর যা হওয়ার তাই হলো।
বিষ্ময়ের বিষয় হলো এখনো পর্যন্ত নেই বহুল আলোচিত-সমালোচিত জেবুন্নেছাসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন কার্যকর পদক্ষেপ সরকারের তরফ থেকে নেয়া হয়নি।
যেকারণে প্রশ্ন ‍উঠেছে সরকারের কোন মহলের যোগসাজস না থাকলে একজন আমলার দায় কেন নিচ্ছে সরকার ?
এরফলে জনক্ষোভ বেড়েছে। বিক্ষুব্ধ নানা সর্বমহলের মানুষ। নানা মত ও আদর্শের সাংবাদিক-এক্টিভিস্টরাও একাট্টা হয়েছেন রোজিনা ইস্যুতে। যা সরকারের জন্য সুখবর না।

 

 

সম্পাদকীয়

আপনার মতামত লিখুন :