বিএনপির মেয়র প্রার্থী মিথ্যাচার করছেন-নৌকার প্রার্থী মাহমুদুল হাসান

21

মণিরামপুর প্রতিনিধি:আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য পৌর নির্বাচন সুষ্ঠ ও অবাধ হবে কিনা-তা নিয়ে বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী যে সংশয় প্রকাশ করেছেন তা বিএনপির রাজনৈতিক স্বভাবসূলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ। এছাড়া বিএনপির কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধাসহ ভয়-ভীতি দেখানোর যে অভিযোগ করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত দাবি করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোরের মণিরামপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র প্রার্থী আলহাজ্জ্ব অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসান। বুধবার সন্ধ্যায় মণিরামপুর প্রেসক্লাবের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি করেন তিনি।
এসময় তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, বরং বিএনপির নাশকতার মামলার আসামি আসাদুজ্জামান মিন্টুর নির্দেশে হালিম, ইসলাম গাজী, বিল্লাল হোসেনসহ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করেছে। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তার ছেলে কাজী মাহমুদ পারভেজ শুভ ও উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ফজলুর রহমানকে জড়িয়ে মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সাথে বিএনপির কোন পর্যায়ের নেতা-কর্মী কিংবা ভোটারদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে জীবননাশের হুমকি দেয়া হয়নি। বিএনপি মেয়র প্রার্থী তার প্রচার মাইক ভাংচুর, পেনড্রাইভ বন্ধ করাসহ ইজিবাইক ভাংচুর করার যে অভিযোগ করেছেন তা অসত্য ও ভিত্তিহীন। বরং প্রতীক বরাদ্দের পর রাতে বিএনপি মেয়র প্রার্থী শহীদ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে বাজারে ধানের শীষের পক্ষে মিছিল করে আচরনবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এরআগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একই স্থানে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ধানের শীষের প্রচার মাইক ভাংচুর, নেতা-কর্মীদের মারপিট, পোস্টার ছিড়ে ফেলাসহ নানা অভিযোগ করেন।
এই অভিযোগ ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি করে আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র প্রার্থী কাজী মাহমুদুল হাসান বলেন, দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর অভিযোগ মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রমূলক। ভিত্তিহীন ও অসত্য তথ্য উপস্থাপন করে বিএনপির নেতা হিসেবে তাদের স্বভাবসূলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।
বিগত সময়ে বিএনপি থেকে নির্বাচিত মেয়র শহীদ ইকবাল হোসেন পৌরসভার দায়িত্ব পালনকালে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন দাবি করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বলেন, তার ব্যর্থতার কারণেই পৌরবাসী মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। একারণে এসব মিথ্যাচার করে ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্ত ছড়ানো হচ্ছে।
আগামী ৩০ জানুয়ারি সূষ্ঠভাবে ভোট প্রদানের প্রত্যয়ে নৌকা মার্কার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ভোটারদের দোয়া ও সমর্থনে সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে নৌকা মার্কা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আওয়ামীলীগের দ্বিতীয় বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পাওয়া এই মেয়র প্রার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি কৃষিবিদ আব্দুস সালাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমাজাদ হোসেন লাভলু, জেলা যুব মহিলা লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম, উপজেলা আওয়ামীলীগের তরুণ নেতা অ্যাড. বশির আহমেদ খান, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকা প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক আমজাদ হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক তরুণ আওয়ামীলীগ নেতা সন্দীপ ঘোষ, সাবেক ছাত্রনেতা নিয়ামত উল্লাহ, উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী জলি আক্তার, জেলা পরিষদ সদস্য রোখসানা পারভীন পান্না, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মনিরুজ্জামান মিল্টন, জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিকাইল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি কামাল হোসেন, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক অরবিন্দু হাজরা, প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন, যুবলীগ নেতা শিপন সরদার, উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মুরাদুজ্জামান মুরাদ প্রমুখ।