বাঘ বাঁচাতে সচেতনা ও গবেষণা বাড়ানোর উদ্যোগ

19

Last Updated on

বাঘকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে ও সচেতনতা বাড়াতে ২৯ জুলাই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে বিশ্ব বাঘ দিবস পালিত হয়।

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। ২০১৫ সালের বাঘশুমারির প্রতিবেদন অনুসারে, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে মাত্র ১০৬টি বেঙ্গল টাইগার ছিল। পরে, ২০১৭-২০১৮ বাঘশুমারিতে সেখানে ১১৪টি বাঘ শনাক্ত করা হয়।

বন বিভাগের তথ্য মতে, ২০০১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৪৮টি বাঘ মারা গেছে। এর মধ্যে ২২টি সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগে এবং ১৬টি পশ্চিম বিভাগে মারা যায়। এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১০টি বাঘের চামড়া উদ্ধার করে।

সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড.শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান,সুন্দরবন ও সকল বন্য প্রাণী আমাদের রক্ষা করতে হবে । কয়েক বছর আগেও সুন্দবনে বাঘের সংখা ছিল প্রায় ৬শ । অধিক লোভে একটি মহল এই বাঘ হত্যা করতে করতে এখন বাঘের সংখা মাত্র ১১৪টি । এই সকল লোভি লোকদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হতো তাহলে বাঘের সংখ্যা এত কমতোনা ।

পরিবেশ ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার জানান , বাঘ রক্ষা ও তাদের বংস বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে সরকার । তাই বাঘ গননা জরিপ-২০১৫’র ফলাফলে দেখা গেছে বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘ ছিল ১০৬টি। আর ২০১৮ সালে জরিপে ১১৪টি বাঘের অস্থিত্ব পাওয়া গেছে । তার মানে হলো বাঘের সংখ্যা আবার রাড়তে শুরু করেছে । তিনি হুমিয়ারি উচ্চারন করে বলেন, বন্য প্রাণী শিকারিদের কোন ছাড় দেওয়া হবেনা ।

প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. আমির হোসাইন চৌধুরী বলেছেন, ‘বাঘ সংরক্ষণ’ নামে একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে যা আগামী মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তিন বছরের এ প্রকল্পে ব্যয় ৪৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি যদি অনুমোদিত হয়, তাহলে ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যে কার্যক্রম শুরু করা হবে।”

ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, “হাজার হাজার মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল।বাঘের জনসংখ্যা সংরক্ষণে সকলকে সম্পৃক্ত করা উচিত এবং রাজনৈতিক লোকদেরও প্রশিক্ষণ দিতে হবে।”

সুন্দরবন একাডেমির পরিচালক সুভাষ বিশ্বাস জানান ,”সুন্দরবন আমাদের রক্ষা করে, আর বাঘ সুন্দরবন রক্ষা করে । তাই বাঘকে রক্ষা করতে হরে। কঠোর ভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে ।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপার) বাগেরহাট শাখা সভাপতি নুর আলম শেখ জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ,চোরা শিকারীদের হানা ও বিষ দিয়ে মাছ শিকারের জন্য বাঘের সংখ্যা কমে গেছে । সুন্দরবন ও বাঘের আবাস স্থল নিরাপদ রাখতে হবে ।তাহলেই বাঘের সংখ্যা আবার বৃদ্ধি পাবে ।

বাঘ নিয়ে কাজ করে এমন এনজিও ”টাইগার টিমের” টিম লীডার মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, “সুন্দরবনের অস্তিত্ব ও বাঘ রক্ষায় কাজ চলছে। এখন বাঘ ও বন্য প্রাণী লোকালয়ে এলে  স্থানীয়রা তা হত্যা না করে সুন্দরবনে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা  গ্রহণ করে ৷”

এনজিও কোডেক,ফিল্ড অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, “সম্প্রতি সুন্দরবনের বাঘ গননা জরিপ-২০১৫’র ফলাফলে দেখা গেছে বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘ রয়েছে ১০৬টি। আর ২০১৮ সালে জরিপে ১১৪টি। এ ধারা অব্যাহত রাখতে নানা উদ্যোগ সরকারী ও বেসরকারী পর্যায় কাজ করছে৷”

ওয়াইল্ডটিম সুন্দরবন-সংলগ্ন অঞ্চলে একটি বাঘ সংবেদনশীল গ্রাম প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং তারা ইতোমধ্যে সাতক্ষীরার তিনটি গ্রামে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, যোগ করেন তিনি ।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, “সুন্দরবনে বাঘ শিকারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি স্মার্ট টহল করা হচ্ছে।”

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের ডিএফও বশিরুল আল মামুন বলেছেন, তারা মূল শিকারিদের প্রবেশের জায়গাটিকে বিশেষ নজরদারির মধ্যে রেখেছেন।

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাঘশুমারি প্রকল্প ২০১৫ সালে শুমারি পরিচালনা করেছে। এতে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে সুন্দরবন থেকে ধারণ করা বাঘের ১৫,০০ চিত্র ও পায়ের ছাপ পরীক্ষা করা হয় এবং দেখা যায় বাঘের সংখ্যা বিপুল পরিমাণে কম।

সরকারের ২০০৪ সালে পরিচালিত বাঘশুমারি অনুসারে, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশটি ৪৪০টি বাঘের আবাস ছিল।

সেন্ট পিটার্সবার্গের বাঘ শীর্ষ সম্মেলন হতে ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর ২৯ জুলাই আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস পালন করা হচ্ছে।