বাঘের হামলায় মৃত্যু গুজবের পর বাড়ি ফিরলেন মধু সংগ্রহকারী সিরাজুল

15

>>গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:সব জল্পনা-কল্পনা আর গুজবের অবসান ঘটেছে মৌয়াল সিরাজুল সরদারের বাড়ি ফেরার মধ্যদিয়ে। গত ১ এপ্রিল সুন্দরবেন মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনে যান তিনি। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাঘের আক্রমণে তার নিহত হওয়ার ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার কয়েকটি পত্রিকায় বাঘের হামলায় মৌয়াল সিরাজুল নিহত হয়েছেন-এমন খবর প্রকাশিত হয়। তিনি খুলনার কয়রা উপজেলার গোবরা গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার সুস্থ শরীরে বাড়ি ফেরার পর তার পরিবারে যেমন আহাজারী থেমেছে তেমনি স্বস্তি ফিরেছে এলাকাতেও। তিনি খুলনার কয়রা উপজেলার গোবরা গ্রামের বাসিন্দা।
মৌয়াল সিরাজুল সরদার বলেন, ‘আমি জানতাম না আমার মৃত্যুর খবর পেপারে ছাপা হয়েছে। মেয়াদ শেষে ফরেস্ট স্টেশনে পাশ সমর্পণ করার সময় তারা আমাকে দেখে কানাঘুষা শুরু করেন। পরে তাদের মাধ্যমে আসল ঘটনা জানতি পারি।
এদিকে মৌয়াল সিরাজ সরদার ফিরে এসেছেন শুনে তার কাছের ও দূরের আত্মীয় স্বজনরা ভীড় জমান তার বাড়িতে। মানুষের ভীড়ে সিরাজ সরদারের ছোট্ট বাড়ি যেন রুপ নেয় হাট-বাজারে। আত্মীয় স্বজনের অনেকেরই কান্নাকাটি করতে দেখা গেছে। গ্রামের অনেকেই যারা ফেসবুকে সিরাজ সরদারের মৃত্যুদেহ উদ্ধারের বিষয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন তারাও তা মুছে ফেলেছেন। সিরাজ সরদারের বড় মেয়ে সেলিনা খাতুন জানান, রোববার তারা খবর পান বাবার নৌকায় বাঘের হামলা হয়েছে। খালেক নামে গ্রামের এক ব্যাক্তি এই খবর ছড়ায়। খালেকের বাবাও মধু সংগ্রহে সুন্দরবনে গেছে। যেকারণে খবরটির গুরুত্ব দেয় স্থানীয় মানুষ। এ খবর বন বিভাগকে জানালে তারা সেখানে উদ্ধারকারি দল পাঠায়। এদিকে গ্রাম থেকে একটি দল সুন্দরবনে চলে যায় খবর নিতে। এরমধ্যে সোমবার দুপুরের পর ফেসবুকে তার বাবার মৃতদেহ উদ্ধার করে বাড়ি আনার খবর ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ফেসবুকের ছড়িয়ে পড়া খবরটিকে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদপত্রেও ছেপেছেন। অথচ এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তবে বন বিভাগের স্টাফরা তাদের বাড়ি গিয়ে পরিবারের সান্ত¦না দেয়ার পাশপাশি সার্বিক খোঁজ খবর নিয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আঃ গফ্ফার ঢালী বলেন, মানুষ গুজব ছড়িয়ে একটি পরিবারকে কোথায় নিতে পারে তার বাস্তব উদারণ সিরাজ সরদারের পরিবারটি। গত কয়েকদিন ধরে তার স্ত্রী ছেলে-মেয়েদের কান্নাকাটিতে এলাকার আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছিল। বাবার মৃত্যু খবর শুনে তার লাশটি উদ্ধারের জন্য মানুষের কাছে ধর্না দিয়েছিল তারা। গত দু’দিনে না খেয়ে শুকিয়ে গেছে তার স্ত্রী ও সন্তানরা। তিনি গুজব রটনাকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেন। সুন্দরবনের কোবাদক ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন বলেন, বাঘের হামলায় মৌয়াল সিরাজ সরদারের মৃত্যুর খবরে সংবাদপত্রে আমার উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে। যা আদৌও সঠিক না। এ কয়েকদিনের গুজবে অনেককেরই হয়রানি হতে হয়েছে। এ ধরণের গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।