বাঘারপাড়ায় ‘হাতুড়ি বাহিনী’র অত্যাচারে দিশেহারা এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

137

>>স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা মুক্তিযোদ্ধা সবের আলী বিশ্বাস পরিবারের
মোল্লা মশিউর:
মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ ও সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে প্রবাসে গিয়ে কিছু টাকা রোজগার করায় যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের জীবনে। একের পর এক মোটা অংকের চাঁদা দাবি আর সেই দাবি পূরণে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে পরিবারটির ওপর হাতুড়ি বাহিনীর অত্যাচারের খড়গ নেমে আসছে। এরই  মধ্যে হাতুড়ি পেটায় এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বেশ কয়েকজনকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে। এখন পরিবারটিকে ‘রাজাকার পরিবার’ হিসেবে প্রচার করছে কথিত আইনজীবী শামীমসহ তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা। এরফলে পরিবারটি সামাজিকভাবে যেমন সম্মান হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছে তেমনি হামলা আতঙ্কে পরিবারটির সদস্যরা এক প্রকার গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘটনাটি জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার প্রেমচারা গ্রামের। এনিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্তর সংবাদ বেরিয়েছে। তারপরও এই বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টনক নড়েনি প্রশাসনের।
স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক ভুমিকার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সবের আলী বিশ্বাস পরিবারের ক্ষতিগ্রস্তরা।

মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সবের আলী বিশ্বাসের পুত্র প্রবাসী মহশিন আলী জানান, ৭১ সালে তার বয়স ছিল মাত্র ৩ বছর। তখন বাবা সবের আলীসহ পরিবারটির বেশ কয়েকজন পরিবারের কথা চিন্তা না করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধে। তারা লাল-সবুজের পতাকা ছিনিয়ে তারপর ফিরেছিলেন পরিবারে। অথচ সেই ৩ বছরের মহশিনকে এখন রাজাকার বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে চাঁদাবাজচক্র।
মহশীন বিশ্বাস জানান, সংসারের অভাব অন্টন লেগেই থাকতো। তাই তিনিসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য পাড়ী দেন প্রবাসে। সেখানে কঠোর পরিশ্রম আর ঘাম বিক্রির টাকায় সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরতে শুরু করে। প্রবাসে টানা ১৯ বছর থাকার পর সম্প্রতি মহশিন বিশ্বাস ছুটিতে বাড়িতে ফেরেন।
এরপরই পরিবারটির কাছে মোটা অংকের চাঁদাদাবি করতে থাকে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ অনন্ত ১৪টি মামলার আসামি শামীম। চাঁদা দিতে অপারকতা প্রকাশ করায় শামীম এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পেছনে লেলিয়ে দেয় তার হাতুড়ি বাহিনীর সদস্যদের। দেখুন প্রবাসী মহশিন বিশ্বাসের সাক্ষাতকারের ভিডিও

গত ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর শামীম বাহিনীর সদস্যরা আব্দুস সামাদের পুত্র লিটন (৪০), একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সোবহান মিয়ার ছেলে মাসুম বিল্লাহ (৪০) ও জাহিদুল ইসলামকে (৪৫) হাতুড়ি পেটা করে হাত-পা পঙ্গু করে দেয়। এছাড়াও মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সবের আলী বিশ্বাস পরিবারের আরও কয়েকজনে বিভিন্ন সময় মারধর করে আহত করেছে একই বাহিনীর সদস্যরা।
সবশেষে এখন প্রবাস জীবন থেকে পরিবারে ফেরা মহশিন আলীকে ‘রাজাকার’ প্রচার করে সামাজিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে।
কান্নাজড়িত কন্ঠে মহশিন বলেন, আমার বাবা সবের আলী বিশ্বাসসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন আমাদের  পরিবারে রেখে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। আমিসহ আমার দুই ভাইও তখন খুবই ছোট। অথচ এখন আমাদের বলা হচ্ছে রাজাকার! এরচেয়ে দু:খজনক ও লজ্জার আর কী হতে পারে ?
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন করেন তাহলে কী মুক্তিযুদ্ধ করাটায় আমাদের জীবনে আজন্ম পাপ হয়েছে ?
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: আলম জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় মহশিন আলী বিশ্বাসে বয়স ছিল মাত্র ৩ বছর। সুতরাং রাজাকার প্রচার করে কোন লাভ নেই। তিনি প্রবাসে পরিশ্রম করে কিছু টাকা রোজগার করে ছুটিতে বাড়ি এসেছেন। এখন এই টাকা হয়েছে তার জীবন ও পরিবারের সদস্যদের জন্য কাল। তিনি বলেন, মহশিন খুবই ভদ্রলোক। তার পিতা মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা সবের আলীর এলাকায় খ্যাতি রয়েছে।
এ ব্যাপারে িহাতুড়ি বাহিনীর প্রধান হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ অনন্ত ১৪টি মামলার আসামি কথিত আইনজীবী শামীমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।