বাঘারপাড়ায় ‘রাজাকার মামলা’র কতিপয় সাক্ষীর বেপরোয়া চাঁদাবাজি!

54

>>চক্রটির ঘাস মারা কীটনাশকে মহশীনের কয়েক লাখ টাকার কচুর ক্ষেত শেষ
>>
ফলজ বাগানের জাল তৈরির মেশিনটিও রাতের অন্ধকারে গেছে খোয়া  
>>স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালসহ উপরিমহলের হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী
মোল্লা মশিউর:
যশোরের বাঘারপাড়ার প্রেমচারা গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার আমজাদ মোল্লার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিচারাধীন মামলার বেশ কয়েকজন সাক্ষীর চাঁদাবাজিসহ বহুমুখী অত্যাচারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মৃত মুক্তিযোদ্ধা সবের আলী বিশ্বাসের পরিবার। মামলার সাক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতার অজুহাত তুলে এমন কোন সমাজ বিরোধী কাজ নেই যা তারা করছে না। রাজাকারের বিরুদ্ধে চলমান মামলার সাক্ষী হওয়ায় তারা বলছেন আমাদের সব অপরাধ মাফ! ‘সরকার আমাদের নিরাপত্তা দিতে বাধ্য’ প্রচার দিয়ে চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে ক্ষেতের ফসল নষ্ট ও কৃষি কাজে ব্যবহৃত মুল্যবান মেশিন চুরি করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। এসবের প্রতিবাদ করলে নেমে আসে হাতুড়ি বাহিনীর খড়গ। স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবাদী কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বিরুদ্ধে বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করে হেয়প্রতিপন্ন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও খবর>>
বাঘারপাড়ায় ‘হাতুড়ি বাহিনী’র অত্যাচারে দিশেহারা এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

অভিযোগে জানা যায়, এরই  মধ্যে হাতুড়ি পেটায় মৃত মুক্তিযোদ্ধা সবের আলী বিশ্বাস পরিবারের বেশ কয়েকজনকে পঙ্গু করা হয়েছে। মৃত মুক্তিযোদ্ধা সবের আলী বিশ্বাসের পুত্র মহশীন আলী বিশ্বাস সম্প্রতি প্রবাস থেকে ফিরে গ্রামে চাষাবাদের কাজে মনোযোগী হন। এ অবস্থায় তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বসে আমজাদ রাকাজারের বিরুদ্ধে চলমান মামলার বেশ কয়েকজন সাক্ষী। কিন্তু মহশীন বিশ্বাস চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের ওপর ‘রাজাকার মামলার’ কয়েকজন সাক্ষীর গড়ে তোলা হাতুড়ি বাহিনীর সন্ত্রাসীরা মারপিট শুরু করে। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর শামীম বাহিনীর সদস্যরা আব্দুস সামাদের পুত্র লিটন (৪০), একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সোবহান মিয়ার ছেলে মাসুম বিল্লাহ (৪০) ও জাহিদুল ইসলামকে (৪৫) হাতুড়ি পেটা করে হাত-পা পঙ্গু করে দেয়।

দেখুন ক্ষতিগ্রস্ত মহশীন বিশ্বাসের সাক্ষাতকারের ভিডিও দেখতে ক্লিক করুণ

এছাড়াও মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সবের আলী বিশ্বাস পরিবারের আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন সময় মারধর করে আহত করেছে একই বাহিনীর সদস্যরা।

এই হাতুড়ি বাহিনীর প্রধান কথিত আইনজীবী জনৈক শামীম। তিনি নেপথ্যে কলকাঠি নেড়ে এলাকার বহু মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সর্বসান্ত করেছে।
এদিকে মৃত মুক্তিযোদ্ধা সবের আলী বিশ্বাসের ছেলে মহশীন বিশ্বাস ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় তাকে রাজাকার পরিবার বানানোর বহুমুখী অপতৎপরতা শুরু করে চক্রটি। কিন্তু তাদের সেই অপপ্রচার কাজে আসেনি। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময় মহশীন বিশ্বাসের বয়স ছিল মাত্র ৩ বছর।
মহশীনসহ ৩ শিশু সন্তানকে ফেলে তাদের পিতা সবের আলী বিশ্বাস মুক্তিযুদ্ধে যান। দেশ স্বাধীনের পর অনেকের ভাগ্যের চাকা ঘুরলেও মুক্তিযোদ্ধা সবের বিশ্বাস পরিবারের অভাব অনটন যেন নিত্য দিনে সঙ্গী হয়ে বসে।
এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে মুক্তিযোদ্ধা সবের বিশ্বাসের ছেলে মহশীন বিশ্বাস টানা ১৯ বছর বিদেশ চাকরি করে সম্প্রতি দেশে ফিরে চাষাবাদ শুরু করেন।

স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানান, মহশীন চাঁদা না দেয়ায় তাকে রাজাকার প্রচার দেয় চক্রটি। কিন্তু তাদের সেই অপ্রচার কাজে আসেনি। কারণ যুদ্ধের সময় মহশীন বিশ্বাসে বয়স ছিল মাত্র ৩ বছর।
এদিকে রাজাকার আমজাদ মোল্লার ‍বিরুদ্ধে চলমান মামলার বেশ কয়েকজন সাক্ষী স্থানীয় কিছু পত্রিকায়  মহশীন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে মহশীন বিশ্বাসকে রাজাকারের সহযোগী হিসেবে সংবাদ প্রচার করে।

এতেই তারা ক্ষ্যান্ত হয়নি। সম্প্রতি মহশীন বিশ্বাসের কচু ক্ষেতে ঘাস মারা কীটনাশক দিয়ে কয়েক লাখ টাকা ক্ষতি করে।
গত ৫ এপ্রিল রাতে মহশীনের ফলজ গাছের জাল তৈরির একটি মুল্যমান মেশিনটি চুরি করে নিয়ে গেছে চক্রটির সদস্যরা।

এরফলে মহশীন বিশ্বাসের ফলের বাগানের সুরক্ষা দেয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা বলছেন আমজাদ রাজাকারের বিরুদ্ধে চলমান মামলায় যারা সাক্ষী হয়েছেন তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। তারা সমাজ বিরোধী এমন কোন কাজ নেই, যা তারা করছে না। এসবের প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা বা জিডি ঠুকে দেয় চক্রের সদস্যরা। তারা অভিযোগ বলে আমরা রাজাকারের মামলার সাক্ষী হওয়ায় জীবনের হুমকি আসছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এরফলে অপরাধ করেও তারা পার পেয়ে যাচ্ছে।

একদিকে এলাকায় প্রভাবশালী ও অন্যদিকে রাজাকারের বিরুদ্ধে চলমান মামলার সাক্ষী হওয়ায় চক্রটির পোয়া এখন বারো! তারা দিনকে রাত আর রাতকে দিন বানিয়ে অবৈধপন্থায় কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এরফলে এলাকার মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। প্রায়ই হামলা মামলার ঘটনা ঘটছে।

বিষয়টিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উপরিমহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

 

 

 

 

 

রাজাকারের মামলার