বাঘারপাড়ায় ডায়রিয়া রোগীর প্রকোপ বৃদ্ধি

8

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি:যশোরের বাঘারপাড়ায় প্রতিদিনই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউই বাদ যাচ্ছে না। ইনডোর ও আউটডোরে বেশির ভাগ ডায়রিয়া রোগীর দেখা মিলছে। শয্যা সংকট থাকায় বাধ্য হয়ে রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতেও অবস্থান নিয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীদের জন্য বরাদ্দ ৮টি শয্যা। যেখানে পুরুষের জন্য ৩টি শয্যা এবং মহিলা ও শিশুদের জন্য আলাদা কক্ষে একই সঙ্গে ৫টি শয্যা বরাদ্দ রয়েছে। ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়তে থাকায় সৃষ্টি হয় শয্যা সংকট। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীদের হাসপাতালের মেঝেতে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
হাসপাতালের ওয়ার্ড ইনচার্জ মারিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে জরুরী বিভাগ (আউটডোর) ও ওয়ার্ডে ভর্তি (ইনডোর) ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ১০২ জন। এর মধ্যে ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন ৫০ জন। ভর্তিকৃত রোগীদের মধ্যে শিশু ২০ জন, মহিলা ১৬ জন ও পুরুষ ১৪ জন। তিনি আরো জানান, ‘ডায়রিয়া রোগীকে খাওয়ার স্যালাইন, জিঙ্ক ট্যাবলেট, প্যারাসিটামল সিরাপ (শিশুদের জন্য), প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, ক্যানেলাসহ কলেরা ইঞ্জেকশন নিয়ম মেনে দেয়া হচ্ছে। ঘাটতির কারণে গ্যাস ও এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৬০ বছর বয়সী ধূপখালী গ্রামের জোহরা বেগম দুইদিন ধরে ভর্তি আছেন। তিনি বলেন, ‘সারাদিনে ডাক্তার আসে এক বার। নার্সরা ডাকলে আসে’। আর ঔষধের যেগুলো দামি তা আমার নিজেরই কিনে নিতে হচ্ছে। শুধু মাত্র খাওয়ার স্যালাইন ও কলেরা স্যালইন ছাড়া আর কিছুই আমাকে দেয়নি। একইভাবে অভিযোগ করেছেন উপজেলার রাধানগর গ্রামের খলিল মোল্লা ও আজমেহেরপুর গ্রামের দেড় বছরের লিজার স্বজনরা।
বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রত্যেক রোগীর নিয়ম মেনেই চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ঔষধের তেমন ঘাটতি নেই। কিছু ঔষধের ঘাটতি আছে। হাসপাতালে ইতোমধ্যে ৫৫ লাখ টাকার ঔষধ বরাদ্দ হয়েছে। সেগুলো হাতে পেলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। তিনি আরো বলেন, জনগন সচেতন হলেই ডায়রিয়ার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।