বাগেরহাটে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

34

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মেহেদি হাসান বাবুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। শনিবার (২৯ মে) দুপুরে বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের সাইনবোর্ড বাজার এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে এক মানববন্ধনের মাধ্যমে এই দাবি করা হয়। জেলা-উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীসহ রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে রাড়ীপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ব্যানারে ঘন্টাব্যাপি বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা কর্মীরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, রাড়ীপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ দত্ত, কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রায়ত এসএম মাহফুজুর রহমানের স্ত্রী রাড়ীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাসলিমা বেগম, নাজমা বেগম, সাইনবোর্ড বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণ প্রসাদ দেবনাথ, রাড়ীপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ তুহিন মাহমুদ, যুবলীগ নেতা মোস্তাক আহমেদ, ছাত্রলীগ নেতা ইউসুফ শেখ, হাসান প্রমুখ। আরও খবর>>ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ নারী কাউন্সিলরের

বক্তারা বলেন, মেহেদি হাসান বাবু কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তিনবারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রয়াত এসএম মাহফুজুর রহমানের বড় ছেলে। কয়েক দিন আগে মাহফুজুর রহমান মারা যান। তার মৃত্যুর পর উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন লক্ষ্যে কতিপয় ব্যক্তি মেহেদি হাসান বাবুর দলীয় মনোনয়ন ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বাবু ও তার পরিবার নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
বক্তারা বলেন, এলাকার মানুষ এসএম মাহফুজুর রহমানের পরিবারের কাছে নিরাপদ ছিল। তারা এলাকার মানুষকে ভালবাসে। আগামীতে আমরা এসএম মাহফুজুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান বাবুকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই।
প্রয়াত এসএম মাহফুজুর রহমানের স্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত রাড়ীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নাজমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী সারাজীবন মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার রয়েছে ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমার স্বামীর মৃত্যুর সাথে সাথে একটি পক্ষ আমাদের পরিবার নিয়ে ষড়যন্ত্র করে একের পর এক আঘাত হানছে। আমার বড় ছেলে মেহেদি হাসান বাবুর উপর হামলা চালানো হয়। আবার ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আসামি করা হয়। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আমাদের অন্তিতে বসবাসের ব্যবস্থা করে দিতে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন ও বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
ক্রাচে ভর দিয়ে মানববন্ধনে উপস্থিত হন প্যারালাইজড লোকমান হোসেন। তিনি বলেন, কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান যেদিন মারা গেলেন, ঠিক সেই দিন-ই রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলো মেম্বারের দুই ছেলে বায়জিদ-শামীম আমার পা ভেঙ্গে দেয়। আমার অপরাধ ছিলা জমি কিনে দেয়ার কথা বলে দেলো মেম্বারের নেওয়া দুই লাখ টাকা ফেরত চাওয়া। পরে বিষয়টি আবার বাবু ভাইকে জানাই। বাবু ভাই মেম্বারের বাড়িতে বিষয়টি জানতে গেলে, তারা বাবু ভাইয়ের উপর হামলা চালায়। শুধু হামলা চালিয়ে-ই ক্ষ্যান্ত হয়নি, তারা বাবু ভাইয়ের নামে মিথ্যে মামলাও দিয়েছে। আমার মত একজন অহসায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে তিনি হামলা-মামলার শিকার হলেন এজন্য আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।
গেল ১১ মে একটি তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে রাড়িপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরের দিন ১২ মে রাতে মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রাড়ীপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান বাবুসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। আসলে ওই ঘটনায় যুবলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান বাবুর কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন মানববন্ধনকারীরা।