বাগেরহাটে টিকা কেন্দ্রে নারী-পুরুষের লম্বা লাইন

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:27 PM, 12 July 2021

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটে টিকা নিতে লম্বা লাইন শুরু হয়ে গেছে। তবে এখানেও স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। টিকা নিতে সকাল থেকে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন নারী-পুরুষ। সোমবার (১২ জুলাই) সকাল থেকেই বাগেরহাট সদর হাসপাতালে টিকা নিতে ব্যাপক ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। ভীড়ের কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছে রেড ক্রিসেন্ট ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক বয়স্ক ও বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে এদিন টিকা নিতে আগ্রহীদের মধ্যে ছিলো না কোন স্বাস্থ্যবিধি। আরও খবর>>বাগেরহাটে ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত ১৯৬:দু’জনের মৃত্যু

ভ্যাকসিন প্রদান বুথে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য বিধি। রেডক্রিসেন্টের নিবন্ধন টেবিলের সামনে গাদাগাদি করা লোক। একজনের শরীরের সাথে অন্যজনের শরীরে মেশানো। বুথের বাইরে টিকা গ্রহিতাদের উপচে পড়া ভীড়। লাইনে দাঁড়ানো লোকদের গা ঘেঁষে হেঁটে যাচ্ছেন, কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীনর রোগীর স্বজনরা। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, যারা আজকের জন্য ম্যাসেজ পেয়েছেন শুধুমাত্র তারা আসলে এই ভীড় হত না। যাদের টিকার ম্যাসেজ দেয়া হয়নি, তারা আসায় অতিরিক্ত ভীড় হয়েছে।
জেলার সদর উপজেলা তালেশ^র গ্রামের রুমিসা বেগম বলেন, সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। প্রচন্ড গরমে ৪ ঘন্টায় অসুস্থ হয়ে পড়েছি। এখনও আমি টিকা পায়নি।
বাগেরহাট শহরের আমলাপাড়া এলাকার শিক্ষক আবুল হাসনাথ স্বপন বলেন, সকাল ৯টায় সময় এসেছি। এখানে অনেক বয়স্ক ও বৃদ্ধ রয়েছেন, যারা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এখানে পানির ব্যবস্থাও নেই।
শহরের খারদ্বার এলাকার হায়দার পাইক বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কখন টিকা পাবো জানি না। এখানে এত ভীড় আমরা বাধ্য হয়ে একজন অপরজনের গা’ ঘেঁষে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছি।
বাগেরহাট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব প্রধান শরিফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ৮ জুলাই থেকেই আমাদের ৫০ জন স্বেচ্ছাসেসবক এখানে কাজ করছে। কিন্তু টিকা নিতে আসা লোকের চাপ এত বেশি যে আমরা তাদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি। টিকা গ্রহিতারা বসে অপেক্ষা করবে এমন কোন জায়গা ছিল না। আমরা বসার জন্য একটি প্যান্ডেলও করেছি। লোক এত বেশি যে সবাইকে বসতেও দেয়া যাচ্ছে না। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি সকলকে স্বাভাবিকভাবে টিকা দিয়ে বাড়ি ফেরাতে।

বাগেরহাট সিভিল সার্জন ডা. কে,এম হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিদিন ৪০০ মানুষকে টিকা দেয়ার সক্ষমতা আছে। আমরা ৪’শ মানুষকেই ম্যাসেজ দিয়েছি। কিন্তু ম্যাসেজ না পেয়েও কিছু মানুষ টিকা কার্ড নিয়ে হাসপাতালে এসেছে। যার ফলে এই ভীড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, গত ১৭ জুন জেলায় চীনের সিনোফার্ম এর টিকা এসেছিলো ১৬ হাজার ৮০০টি ও গত ৯ জুলাই এসেছে ২৩ হাজার ২০০ টিকা। গত ১৯ জুন থেকে জেলায় সিনোফার্ম এর টিকা দেয়া কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাগেরহাটে দ্বিতীয় ধাপে ১৬ হাজার ৮০০ টিকা এসেছে, সেটি শুধুমাত্র পুলিশ, মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট, বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর্মীসহ করোনা প্রতিরোধে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকরা পেয়েছেন। এছাড়া গত ৮ জুলাই থেকে জেলায় গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেটি চলোমান রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ২৩ হাজার ২০০ টিকা জেলার ৮টি উপজেলায় প্রেরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে উপজেলা গুলোতে টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম টিকার জন্য যারা রেজিষ্ট্রেশন করেছিলো তারা অনেকেই টিকা পাইনি। এছাড়া জেলায় করোনার সংক্রমণ উর্দ্ধগতি ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে করোনা ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। একারণে টিকা নিতে মানুষের ভীড় বেড়েছে। টিকা নিতে মানুষের ভীড় বাড়ার কারণে সদর হাসপাতালে করোনা টিকা কেন্দ্রে ২টি বুথ থেকে বৃদ্ধি করে ৫টি করা হয়েছে। এছাড়া ভীড় সামলাতে রেডক্রিসেন্ট সদস্যদের পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে। সোমবার বাগেরহাটে এক হাজার ছয়শত ২৬ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :