বাগেরহাটে আ’লীগ নেতার বাড়িতে যুবলীগের দু’দফা হামলা:অন্তঃসত্ত্বা বধূসহ আহত ৪

33

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করেছে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান বাবু ও তার সমর্থকরা। এতে আ’লীগ সভাপতি দেলোয়ার হোসেনসহ চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যা ও গভীর রাতে দু’দফায় কচুয়া উপজেলার ভান্ডারকোলা গ্রামে দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
হামলায় আহতরা হলেন, রাড়িপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন (৬৫), তার স্ত্রী রুমিচা বেগম (৫৮), অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ কাকলী বেগম (২৭) ও ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম (৪২)। আহতদের উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাড়িপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান বাবু আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চাদাঁ দাবি করেছিল। আমি টাকা না দিলে সোমবার বিকেলে লোক মারফত আমাকে সাইনবোর্ডে ডেকে পাঠায়। আমি সাইনবোর্ড বাজারে না যাওয়ায় সন্ধ্যায় বাবুসহ কয়েকজন আমার বাড়িতে এসে হামলা করে। পরবর্তীতে গভীররাতে দ্বিতীয় দফায় হামলা করে। আমার বাড়িতে থাকা সবাইকে বেধড়ক মারপিট ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। এতে আমিসহ আমার স্ত্রী, পুত্রবধূ ও ভাগ্নে আহত হয়েছে।
আ’লীগ সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রাড়ীপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বাইজিদ হোসেন বলেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান বাবু তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করেছেন। তারা ঘরে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে ধানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় তারা ঘর থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।
এদিকে রাড়ীপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান বাবুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সহযোগী বাদশা পাইক বলেন, একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি দেলোয়ার হোসেনের কাছে টাকা পাবেন। আমরা সেই টাকা চাইতে গেলে, তার ছেলে ও নিকট আত্মীয়রা আমাদের উপর হামলা করে। এতে আমি, সোহাগ ও রহিম আহত হয়েছি।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর শাফিন মাহমুদ বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় তৃতীয় একটি পক্ষের জমি বিক্রির টাকা আদায় নিয়ে রাড়িপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সাথে মেহেদী হাসান বাবুর বাকবিতন্ডা হয়। পরবর্তীতে ভোর রাতে আবারও ওই বাড়িতে গিয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে বাবুর লোকজন। এতে কয়েকজন আহত হয়। এ ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন এখনও কোন অভিযোগ দেননি। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত ও বাবুকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
কালিগঞ্জ থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে মোশাররফ হোসেন বাড়ির বাইরে এসে হঠাৎ করে একটি চলন্ত বাসের নিজে ঝাঁপ দেন। সেখানেই মারা যান তিনি। ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ পাঠানো হয়েছে সাতক্ষীরা হাসপাতাল মর্গে।