বাঁধ ভেঙে ও উপচে বরগুনার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত

31

তিনটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে হয়েছে। এতে বাঁধ ভেঙে ও উপচে বরগুনার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ মে) বেলা ১১টার দিকে জোয়ারের পানির তোড়ে বেশকিছু এলাকার নাজুক বেড়িবাঁধ ভেঙে ও উপচে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। এছাড়াও নিম্নাঞ্চলের বাঁধের বাইরের বাসিন্দাদের ঘর-বাড়িতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের পোটকাখালী, ডালভাঙা ও নলী এলাকা, নলটোনা ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া, নলটোনা, সোনাতল ও কুমিড়মারা, বুড়িরচর ইউনিয়নের গুলবুনিয়া, বাঁশবুনিয়া, চালিতাতলী, আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়ন, বদরখালী ইউনিয়নের ফুলঝুড়ি, কুমড়াখালী ও গুলিশাখালী এলাকা, পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পদ্মা, জীনতলা, টেংরা, কালমেঘা, তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া, ছোটবগী, নিদ্রার চর, তেতুলবাড়িয়া, খোট্টার চর, সোনাকাটা, নিউপাড়া, আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়ন, গুলিশাখালী, বামনা উপজেলার রামনা, বদনীখালী, বেতাগী উপজেলার কালিকাবাড়ি, ঝিলবুনিয়া, ছোট মোকামিয়া এলাকাসহ জেলার বেশ কিছু স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত বাঁধ ভেঙে ও উপচে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এছাড়াও ওইসব এলাকার বাঁধের বাইরের প্রায় শতাধিক বাড়ি-ঘর পানিতে ডুবে হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ওইসব ঘরবাড়ির বাসিন্দারা। আরও খবর>>‍বিকেল পেরিয়ে উড়িষ্যা অঞ্চলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস

পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর ভাঙন ও উচ্চ জোয়ারের জেলার ২৯ কিলোমিটার জুড়ে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ বিলীনের মুখে। বাঁধ সংস্কার না হওয়ায় উচ্চ জোয়ার,ঝড় বন্যায়ও প্রবল বর্ষণে ভাঙন কবলিত স্থান দিয়ে লোকালয় পানি ঢুকে প্লাবিত হয় ঘর বাড়ি ও জমির ফসল নষ্ট হওয়ার অশঙ্কা করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার তিনটি পয়েন্টে জোয়ারের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী কাইছার আলম বলেন, উচ্চ জোয়ারের চাপে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে যা তাৎক্ষনিকভাবে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতি সভা করেছে জেলা প্রশাসন। প্রস্তুতি সভায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় জেলায় ৬৪২টি আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১ কোটি ২১ টাকা নগদ অর্থসহ ৬ লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও ৩৫৭ মেট্রিক টন চাল মজুদ রাখা হয়েছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৪৪ টি মেডিক্যাল টিম ও রেডক্রিসেন্ট, সিপিপি এবং স্থানীয় ৭ হাজার ৫শ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।