বরিশালে ৩০ শহীদ মিনার বানিয়ে চরের শিশুদের ভাষা দিবস উদযাপন

13

বরিশালের  কীর্তনখোলা নদীতীরের রসুলপুর চরে কাদামাটি, ইট, বালি, কাঠ, ককশিট, বাঁশের কঞ্চিসহ হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই দিয়ে গড়া হয়েছে ৩০টি শহীদ মিনার। এরপর দৃষ্টিনন্দন রূপ দিতে রঙ, রঙিন কাগজ ও নানা রঙের ফুল দিয়ে প্রতিটি মিনার মুড়িয়ে দেয়া হয়।

রসুলপুর চরের সুবিধাবঞ্চিত শিশু কিশোরদের মধ্যে ভাষা ও ভাষা আন্দোলনের মহিমা ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ও শহীদ আলতাফ মাহমুদ স্মৃতি পাঠাগারের সদস্যদের উদ্যোগে অষ্টমবারের মতো শহীদ মিনার তৈরির প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আয়োজনে সাড়া দিয়ে ৩০টি অস্থায়ী শহীদ মিনার গড়েছে চরের শিশু-কিশোররা।

রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এরপর চরের শিশু-কিশোররা ৩০টি দলে ভাগ হয়ে শহীদ মিনার গড়ার কাজে লেগে পড়ে। মাঝে দুপুরে খাবার জন্য বিরতি দেয়া হয়। বিকেলেই গড়ে ওঠে শহীদ মিনার। এরপর তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। তাদের এ কাজে উৎসাহ জোগানোর পাশাপাশি সহায়তা করেছেন বাড়ির দাদি, নানি, মা, চাচি ও বড় ভাইবোনেরা।

২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রসুলপুর চরের সুবিধা বঞ্চিত শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি, সঙ্গীত, কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর নানা অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের উৎসব-উচ্ছ্বাসে মুখরিত ছিল পুরো রসুলপুর চর এলাকা। রাত আটটার দিকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের আয়োজক সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও বাসদ বরিশাল জেলার সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্তী বলেন, রসুলপুর চরে বসবাসকারী পরিবারগুলো গরিব। তাদের ছেলে-মেয়েরা প্রায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অন্যদিকে ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের মানুষের ইতিহাসের উজ্জ্বলতম একটি তারিখ। ১৯৫২ সালের এই দিনে ভাষার জন্য জব্বার, রফিক, সালাম, বরকতসহ অনেকে নিজের বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছেন। সে কারণে আজ আমরা এই ভাষা-সংস্কৃতি ধরে রাখতে পারছি।

তিনি আরও বলেন, এই মহান আত্মত্যাগের কথা রসুলপুর চরের শিশু-কিশোরদেরকে জানানোর জন্য গত আট বছর ধরে শহীদ মিনার তৈরি সহ নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। দিবসটিকে কেন্দ্র করে দিনভর চলেছে নানা অনুষ্ঠান।

শহীদ মিনার তৈরির প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে শিপনের দল ও দ্বিতীয় হয়েছে হামীমের দল। এছাড়া সেরা ১০ শহীদ মিনার তৈরিকারী দল ও চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি, সঙ্গীত, কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার দেয়া হয়।