ফেসবুক ও ইউটিউবে অশ্লীল ভিডিও:প্রযোজকসহ গ্রেফতার ৫

18

এবিসি ডেস্ক:ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে জড়িত নির্মাতা, প্রযোজক ও অভিনেতাসহ একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার (১৫ মার্চ) রাতে ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে সিআইডির সাইবার ক্রাইম পুলিশের একটি দল তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতাকৃতরা হলেন- কমেট মিডিয়ার পরিচালক ও প্রযোজক মনির হোসেন রাজু, কেএমএইচ টিভির পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতা কাজী মনির হোসেন, ক্যামেরাম্যান রফিকুল ইসলাম, ইউটিউব চ্যানেল এস কে আগুনের পরিচালনাকারী ও অভিনেতা এস কে আগুন ও বিভিন্ন অশ্লীল ভিডিওর অভিনেতা ও পরিচালক আসিফ আরাফাত। এ সময় গ্রেফতারদের কাছ থেকে অশ্লীল ভিডিও তৈরিতে ব্যবহৃত ক্যামেরা, হার্ডড্রাইভ, পেনড্রাইভ ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বিকেলে সিআইডির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাইবার ক্রাইম কন্ট্রোল অ্যান্ড কমান্ড সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান এসব তথ্য জানান।

jagonews24

তিনি জানান, ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করে আসছিল একটি চক্র। চক্রটি দেশের কয়েকটি জেলার বিশেষ করে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ এবং রাজবাড়ীতে বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে এমন ভিডিও তৈরি করত। এসব কন্টেন্ট তৈরি করে তারা বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করেছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, গ্রেফতারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডিকে জানিয়েছে- তারা অভিনয়ের কথা বলে বিভিন্ন আগ্রহী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে এ ধরনের অশ্লীল ভিডিও তৈরির কাজ করত। পরে ভিডিওগুলো বিভিন্ন চটকদার শিরোনাম দিয়ে ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচার করে। প্রচার করা ভিডিও বিভিন্ন চ্যানেল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সাবস্ক্রাইবার ও ভিউ বৃদ্ধির মাধ্যমে অনেক টাকা আয় করেছে।

এমন ভিডিও তৈরিতে শুটিং স্পট ভাড়া ও সহায়তাকারীদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা মাত্র এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেছি। আমাদের তদন্তে এরই মধ্যে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের নাম পেয়েছি। ভিডিও তৈরিতে সহযোগিতা করছে এমন কিছু হোটেল ও রিসোর্টের তথ্য পেয়েছি। এছাড়া তারা যে টাকা আয় করেছে, তার বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। যদি কোনো অনিয়ম ধরা পড়ে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাইবার পুলিশের তদন্তে অশ্লীল ভিডিও কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে জড়িত এমন আরও ১৫ থেকে ১৬টি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে বলও জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।

টিটি/এএএইচ/জিকেএস