প্রবাসে পাসপোর্ট নাকি ভোটার কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ?

মালয়েশিয়া থেকে বাপ্পী দাস

46

প্রবাসে পাসপোর্ট নাকি ভোটার কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ? দেশের ২য় বৃহত্তম রেমিট্যান্স আসে প্রবাসী শ্রমিকদের আয় থেকে। বর্তমান সরকার প্রবাসীদের সার্বিক সহযোগীতা করার চেষ্টা করেছেন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তবে চাহিদার তুলনায় সেটা কতটুকু প্রশ্ন থেকে যায়? বর্তমানে পৃথিবী আক্রান্ত কোভিড _১৯ দ্বারা।

পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশেই করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা চলছে লকডাইন। স্বাভাবিক জীবন যাপন করায় হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ। বিভিন্ন দেশের প্রবাসী সহ মালয়েশিয়ার প্রবাসীরা হাইকমিশন থেকে পাসপোর্ট বা অন্যান্য সেবা পেতে দূরভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে মালয়েশিয়া বাংলাদেশী প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন এখন অন-লাইনে করা যায় ও পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে অনলাইনে এ্যাপমেন্ট নেওয়া যায়। প্রবাসীদের দূরভোগ কিছুটা কমলেও আগের তুলনায় পাসপোর্ট হাতে পেতে অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে মন্তব্য করে অনেক প্রবাসী। অন-লাইনে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন কিছুটা সহজ হলে বিপদের মুখে পড়ছে লেখাপড়া না জানা প্রবাসীরা। যারা কোন কিছু লিখতে বা পড়তে যানে না তাদের ইন্টারনেট বা অন- লাইন কতটা যৌক্তিক প্রশ্ন থেকে যায়? এর মধ্যে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে হাতে পেতে সময় লেগে যাচ্ছে তিন থেকে চার মাস তবে এটা সকলে পাচ্ছে না অভিযোগ প্রবাসীদের। সময় মত পাসপোর্ট হাতে না পাওয়ার কপালে চিন্তা ছাপ পড়েছে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের। কথা হয়েছে মালয়েশিয়া প্রবাসী মুক্তার এর সাথে তার অভিযোগ গত আড়াই মাস আগে অন- লাইনে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেন মালয়েশিয়ার বাংলাদেশী এই প্রবাসী।

আজও সে জানে না তার পাসপোর্ট সে পাবে কি না। অভিযোগ একাধিকবার যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশ মালয়েশিয়া পেজে দেওয়া মোবাইল নাম্বারে। অনেক চেষ্টার পরে ফোন রিসিভ করলেও একই উত্তর আসে আমাদের পেজে দেওয়া লিষ্ট চেক করুন। দালালের সাথে যোগাযোগ করেও কিছু টাকা নষ্ট করেছেন এই প্রবাসী। সর্বশেষ মুক্তার বলেন যারা সময় মত পাসপোর্ট হাতে পায় না তারা প্রবাসে ভোটার কার্ড পানি দিয়ে চুবি চুবিয়ে খাবেন অনেক অনেক অভিমান নিয়ে এমন ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই প্রবাসী। আসলেই যেখানে সময় মত পাসপোর্ট হাতে পাচ্ছে না প্রবাসীরা সেখানে জাতীয় পরিচয় পত্র কি কাজে আসবে প্রবাসীদের। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কমপক্ষে ৪০টি দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এতে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকরাও সেখানে থেকেই দেশের সব ধরনের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। প্রথম দিকে এ পরিষেবা ৫-৬টি দেশ যেমন মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও যুক্তরাজ্যে চালু করা হবে। ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে অধিক প্রবাসী অধ্যুষিত ৪০ দেশে কাজ শুরু করব। প্রাথমিকভাবে আমরা ৫-৬টি দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া শুরু করব।’ এনআইডি কার্ডের আবেদনের জন্য প্রবাসীদের ফর্মের সাথে ছয়টি নথি সংযুক্ত করতে হবে। এর মধ্যে পাসপোর্টের ফটোকপি, বিদেশি পাসপোর্টধারী হলে দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদের ফটোকপি বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে শনাক্তকারী একজন প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকের পাসপোর্টের কপি, বাংলাদেশে বসবাসকারী রক্তের সম্পর্কের কোনো আত্মীয়ের নাম, মোবাইল নম্বর, এনআইডি নম্বরসহ অঙ্গীকারনামা, বাংলাদেশে কোথাও ভোটার হননি মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হবে। সিইসি কেএম নুরুল হুদা এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ করোনা শুরুর আগে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের অনলাইন নিবন্ধন শুরু করেছিলেন। গত বছরের নভেম্বরে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের অনলাইনে ভোটার হওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছিল। কোভিড-১৯ মহামারির আগেই চার দেশ থেকে মোট ৭৩৮ প্রবাসী জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৫৩০, যুক্তরাজ্য থেকে ১২১, মালয়েশিয়া থেকে ৪৮ এবং সৌদি আরব থেকে ৩৯টি আবেদন অনলাইনে এসেছে। কমিশন প্রবাসীদের যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসগুলাতে আবেদন পাঠিয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারিজনিত কারণে আবেদনকারীদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের জন্য ইসি এ চারটি দেশে কারিগরি দল পাঠাতে পারেনি। ইসি সূত্র জানায়, চলমান আইডিইএ প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে।

এ জন্য ৪০ দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা দিতে সময় বাড়ানোর জন্য আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) দ্বিতীয় মেয়াদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন ২০০৮ সালে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে। যার ভিত্তিতেই পরে ২০১৬ সালে কাজী রকিবউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে ইসি ভোটারদের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া শুরু করে। এখন ১৩৭টি সংস্থা এনআইডি ডাটাবেস থেকে পরিচয় শনাক্তকরণের পরিষেবা গ্রহণ করছে।