প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ ঘিরে যশোরে জনস্রোতের সম্ভাবনা

শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে বসানো হবে বড় পর্দা

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:35 PM, 17 November 2022
যশোর শহরে কৃষকলীগের প্রচার মিছিল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২৪ নভেম্বরের  জনসভা যশোর জনস্রোতে রুপ নেয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে বড়পর্দা (প্রজেক্টর) বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যশোর আওয়ামী লীগ। এতদিন ৬ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা ছিল দলটির জেলা নেতৃবৃন্দের। তবে নানা কারণে লোকসমাগম ১০ লাখ ছাড়িয়ে বলে মনে করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন। তিনি বলেন-জনসভাকে মহাসমাবেশে রুপ দেয়ার টার্গেট ছিল। তবে দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে লোক সমাগমের সম্ভাবনা ততোই বাড়ছে। 

 

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে যশোরকে উৎসবের নগরীতে পরিণত করার জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও বন্ধুপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মুঠোফোনে মিলন আরও বলেন-জেলা শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ে নিয়মিত সভা, মতবিনিময় ও প্রচার মিছিল হচ্ছে। যশোরের বাইরে নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সমাবেশের আগের দিন থেকে নেতাকর্মীরা যশোরে জড়ো হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সভাস্থলে জনসাধারণের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা। এদিন স্টেডিয়ামে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারেনি। তবে ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রতিনিধিসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রবেশ ও পরিদর্শনে বাধা দেয়নি আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা। বৃহস্পতিবার সভাস্থল পরিদর্শন করেন মাগুরার এমপি সাইফুজ্জামান শেখরসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

 

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে ৭ নভেম্বর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বৃহত্তর যশোর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে মহাসমাবেশে রুপ দিতে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ এই বর্ধিত সভার আয়োজন করে। তারপরই বিপুল লোকসমাগম ঘটানোর টার্গেট নিয়ে প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নামে নেতাকর্মীরা। জেলা-উপজেলা থেকে শুরু করে একদম তৃণমূল পর্যায়ে সমানতালে চলছে সভা-সমাবেশ ও মতবিনিময়সহ প্রচার-প্রচারণা। এসব কর্মসূচিতে জেলার ৬ এমপি, ৮ উপজেলা চেয়ারম্যান, সব পৌর মেয়র ও সাংগঠনিক ইউনিট প্রধানরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিকলীগ ও কৃষকলীগসহ সহযোগী ও বন্ধুপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীরাও প্রচারণা জোরদার করেছে।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল থেকে শহরে প্রচার মিছিল বের করে যশোর জেলা কৃষক লীগ। জেলা কৃষক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন মিছিলে নেতৃত্ব দেন। সহসভাপতি ওমর আলী, মনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজ আলম মনির, আনোয়ারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক তোরাব আলী, আসাদুজ্জামান, দফতর সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা লিন্টু, সহ-সভাপতি এস শামছুদ্দীন পজ্যাতি, পৌর সভাপতি এসএম আব্দুর রব, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বাবু, পৌর কাউন্সিলর নাসিমা পারভীন জলিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মিছিলে অংশ নেন।

সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বৃহস্পতিবার ঝিকরগাছার বাঁকড়া ও শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে প্রচারপত্র বিলি করেন।

এদিন সন্ধ্যায় কেশবপুরের গৌরীঘোনা ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক অলোক চক্রবর্তীর নেতৃত্বে শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ও বাজার প্রদক্ষিণ করে নেতাকর্মীরা। পরে গৌরীঘোনা বাজারে জবেদ আলী চত্বরে পথসভায় বক্তব্য রাখেন-ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান হাবিব, যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক জয়নাল আবেদীন মিঠু ও মাহাবুর রহমান প্রমুখ।

একইদিন মণিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভা হয়। সভা পরিচালনা করেন রিপন কুমার ধর।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের যোগদান করার আহবান জানান। এ সময় মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু, জেলা পরিষদ সদস্য গৌতম চক্রবর্তী, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হক ঢালী, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন রানা, সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হোসেন বক্তব্য রাখেন।

 

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সমাবেশ স্থলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ায় এবং গোটা জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীরমুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন। তিনি বলেন, যশোর এখন নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে ১০ লাখের বেশি মানুষের সমাগম হবে। যেকারণে ঈদগাহ ময়দান, টাউনহল মাঠ, পৌর পার্ক, এমএম কলেজ ও শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে বড়পর্দা বসানো হবে। গোটা যশোর উৎসবের নগরীতে রুপ নেবে বলেও মন্তব্য করেন জেলা আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা।

প্রসঙ্গত, এরআগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর যশোর ঈদগাহ ময়দানে বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। ওই সমাবেশে প্রচুর লোকসমাগম ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার শামস উল হুদা স্টেডিয়ামে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। মাঠের পরিধি বাড়ানো হয়েছে স্টেডিয়ামের উত্তরাংশের গ্যালারি ভেঙে। এরফলে স্টেডিয়ামের মাঠের সাথে একিভুত হয়েছে আব্দুর রাজ্জাক কলেজ ও পৌর পার্কের মাঠ। তারপরও বিপুল লোকসমাগের সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় নেতাকর্মীরা যাতে খুব কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে পারেন, তারজন্য বিভিন্ন স্থানে বড়পর্দা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আ’লীগ।

বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন :