প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিক রহিম রানার খোলা চিঠি

91

Last Updated on

মানণীয় প্রধানমন্ত্রী,

কোভিড-১৯ এ মফস্বল সাংবাদিকরা কতটুকু কষ্টে দিন কাটাচ্ছে সেই বিষয়টি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই আমার আজকের চিঠি লেখা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি নিশ্চয়ই জানেন, ঢাকার বাইরের মফস্বল সাংবাদিকরা বর্তমান
সংকটময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিডিআর, আনছার, ডাক্তার ও
নার্সদের পাশে থেকে প্রতিনিয়ত জরুরী তথ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিডিআর, আনসার, সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী ও ডাক্তার এরা সকলেই বেতনভূক্ত, প্রতিমাসে তারা বেতন পাচ্ছেন এর পরেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় করোনা পরিস্থিতির কারনে তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রনোদনা দিচ্ছে সরকার। কিন্তু ঢাকার বাইরের মফস্বল সাংবাদিকরা বিনা পারিশ্রমিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তা জনগনের দোড় গোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। বিনিময়ে তারা কোন ধরনের আর্থিক সুযোগ পাচ্ছেনা। বরং হামলা, মামলা, নির্যাতনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
মানণীয় প্রধানমন্ত্রী এই মফস্বল সাংবাদিকদের সংসার কিভাবে চলছে? এরা সবাই আপনার দিকে চেয়ে আছে। মফস্বল সাংবাদিকতা কারা করেন এ বিষয়ে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি অবশ্যই জানেন, তবুও একজন মফস্বলের সংবাদকর্মী হিসেবে আজকে আমাকে বলতেই হবে কারা জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন পত্র
পত্রিকার প্রতিনিধি হয়ে দৃঢ়তার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকলের সাথে তথ্যসেবার কাজ করে যাচ্ছেন। জেলা পর্যায়ে যে সকল সাংবাদিকরা কাজ করে
যাচ্ছেন তারা সকলেই নিম্ন মধ্যবিত্ত্ব পরিবারের, কেউই ধনী পরিবারের সন্তান নয়, এই সকল বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন সাংবাদিক লিখালেখি করেন নাই। বর্তমানে মফস্বল সাংবাদিকের অবস্থা এমনটাই দাড়িয়েছে যে, নুন আনতে পানতা ফুরানোর মত। তাদের
অবস্থা নিম্নবিত্ত্ব পরিবারের চেয়েও খারাপ, তবুও তারা
থেমে নেই, ধার দেনা করে ওয়াইফাই বা মোবাইলের মাধ্যমে ডাটা কিনে দেশবাসীকে সঠিকভাবে তথ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। যেমনটি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবনবাঁজী রেখে সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করে তা প্রচার করেছিল, বিষয়টি উপলব্দি করেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সংবিধানে সংবাদপত্রকে বিশেষ স্থান দিয়েছিলেন। ঠিক তেমনি দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে মফস্বল
সাংবাদিকরা আজও জীবনবাঁজী রেখে তথ্য সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। দেশে দুই ধরনের সাংবাদিক আছে একটি ঢাকার সাংবাদিক অন্যটি ঢাকার বাইরের সাংবাদিক যাদেরকে আমরা বলি মফস্বল সাংবাদিক, ঢাকার সাংবাকিদরা একেকজন এক একটি বিটের উপর সংবাদ সংগ্রহ করে এবং তারা সুনির্দিষ্ট একটি বেতন পায়।
আমার জানা মতে সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশের প্রথম সারির
হাতে গোনা ৭/৮ টি দৈনিক পত্রিকা অষ্টম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে মফস্বল
সাংবাদিকদেরকে বেতন
প্রদান করেন। বাকি মফস্বল সাংবাদিকদের সুনিদিষ্ট কোন বিট নেই, বেতন ভাতাও নেই, তারা নিজেরাই ক্যামেরাম্যান আবার নিজেরাই সংবাদ লেখক।
বেতনভাতা তো নেই তারপরও তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়
বিজ্ঞাপন সংগ্রহের কাজ, অনেক তেল পানি খরচ করে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করে পাঠিয়ে স্ব-স্ব পত্রিকাতে ছাপানোর পর বিলের কমিশনটাও ঠিকমত পান না তারা। এখন ভেবে দেখুন মফস্বল সাংবাদিকরা কিভাবে এই সংকটময় মুহুর্তে পরিবার পরিজন নিয়ে দিন যাপন করছেন।
মানণীয় প্রধানমন্ত্রী এই সংকটকালীন মুহুর্তে চিকিৎসক, নার্সসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর জন্য
বীমা ও প্রণোদনা প্রদানের কথা জানালেও ঝুঁকির মধ্যে তথ্যসেবা দিয়ে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদেরকে কেবল ধন্যবাদ দেয়া হয়েছে। এমনকি এবিষয়ে ইতোপূর্বে আমার লেখা একটি খোলাচিঠির প্রেক্ষিতে আপনার নির্দেশে পিআইবি সকল জেলা প্রশাসককে সাংবাদিকদের প্রণোদনা দিতে চিঠি দিলেও একদিন পরেই অজ্ঞাত কারণে তা প্রত‍্যাহার করা হয়েছে। এটি সাংবাদিকদের জন্য চরম অসম্মান জনক। আমার প্রশ্ন, শুধু ধন্যবাদ দিয়ে কি তাদের পেট চলবে ? এ বিষয়টি নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করে দেশের সকল মফস্বল সাংবাদিকরা সোসাল মিডিয়াতে লিখালেখি করে যাচ্ছেন তাতেও কোন প্রকার ফলপ্রসু পাওয়া যাচ্ছেনা। তবুও থেমে নেই মফস্বলের সাংবাদিকরা। আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের দায়িত্ব পালনে। বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে পত্রিকা প্রকাশনা বন্ধ থাকলেও বন্ধ নেই অন লাইন পত্রিকা, অন্যদিকে প্রতিটা গণমাধ্যমের ই-পেপার চালু রয়েছে সেখানে প্রতিনিয়ত দেশের সার্বিক সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সংবাদিক সংগঠনের মাধ্যমে প্রায় ৫হাজার সাংবাদিকের নাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রেরন করা হয়েছে। আমার জানা মতে এই তালিকায় মফস্বল সাংবাদিকদের সুস্পষ্ট তথ্য নেই, প্রকৃত মফস্বল সাংবাদিকরা এই তালিকা হতে বঞ্চিত হয়েছে বলেও সূত্র
মতে জানা গেছে। মানণীয় প্রধানমন্ত্রী সকল সুযোগ সুবিধার বেলায় এই মফস্বল সাংবাদিকরা সব থেকে বেশি বৈষম্যের শিকার। প্রতিনিয়ত মফস্বলের সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, তাদের নামে মামলা হামলা
হচ্ছে তবুও তারা সঠিক বিচার পাচ্ছে না। খেয়ে না খেয়ে মানুষকে তথ্যসেবা দিয়ে আসলেও তাদের তথ্য নেয়ার মত সময় কারো থাকে না। তাই বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনার কাছে অনুরোধ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মৃত্যুর আগ
পর্যন্ত এই দেশের গরীব মানুষদের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন, আপনিও তাই করে যাচ্ছেন। আপনি হয়তো জানেন
না এই সাংবাদিকতা পেশায় কত মানুষ আজ অসহায়। দেশের এই কঠিন সময়ে সকল মফস্বল সাংবাদিক আপনার দিকে তাকিয়ে আছে।

নিবেদক,
জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর জেলা সমন্বয়কারী, সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি) ও যশোর জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক নাগরিক ভাবনা ও স্টাফ রিপোর্টার, এবিসি বাংলা ৭১ নিউজ। মোবাইল : ০১৩০০৮৩২৮৬৮
ইমেইল : ranadbf@gmail.com