প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাতে ঢাকায় আসছেন জন কেরি

7

জলবায়ুবিষয়ক একটি সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাতে শুক্রবার ঝটিকা সফরে ঢাকা আসছেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি। এই সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের নীতি নির্ধারণী একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বাইডেন প্রশাসনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হচ্ছে, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করে করোনাকালে অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন নতুন খাত উদ্ভাবন করা। আগামী দিনের এই জলবায়ু লড়াইয়ে জয়ী হতে বাংলাদেশকে পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি পশ্চিমা এই দেশটির উদ্যোগে চলমান ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল বাস্তবায়নেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশাসনকে পাশে চায় বাইডেন প্রশাসন। এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে প্রতিরক্ষাসম্পর্কিত বেশ কয়েকটি ইস্যুতে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।

মূলত এসব কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জলবায়ুবিষয়ক একটি সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাতে সশরীরে ঝটিকা সফরে ঢাকা আসছেন জন কেরি। আগামী ২৩ ও ২৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ক্লাইমেট লিডারস সামিট নামে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনটি হবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট গত ৩১ মার্চ জানিয়েছে, আসন্ন ক্লাইমেট লিডারস সামিট এবং কপ২৬ (বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন) সম্মেলনে খুব ভালো অগ্রগতি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি ১ থেকে ৯ এপ্রিল আবুধাবি, নয়াদিল্লি এবং ঢাকা সফর করবেন।

জেমস দিউয়ে বলেন, যেহেতু এটা করোনাকাল তাই এই সফরে জন কেরি খুবই সতর্ক থাকবেন। এই সফরে যাদের সঙ্গে তার বৈঠক হবে তাদের সঙ্গে আগে থেকেই কথা বলে বৈঠকের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্টনি ব্লিনকেন গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে এন্টনি ব্লিনকেন বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ট অংশীদার।

ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

দুই দেশের মধ্যে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৈঠকের উদাহরণ টেনে এন্টনি ব্লিনকেন বলেন, বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে জনস্বাস্থ্য, জ্বালানি এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে কাজ করেছে। দুই দেশের মধ্যে নিরাপদ বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে নীতি সহায়তা প্রত্যাশা করে।