পেগাসাসের নজরদারিতে রাহুল-প্রশান্ত বাদেও ৪০ সাংবাদিকের নাম

6

ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার দিয়ে আড়িপাতার সম্ভাব্য নিশানায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে নাম এসেছে ভারতীয় কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী এবং নির্বাচনী কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের। তালিকায় রয়েছেন দেশটির বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণও। এছাড়া মোদি সরকারের আমলে ভারতের অন্তত ৪০ জন সাংবাদিকের ফোনে আড়িপাতা বা এর চেষ্টা করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের আগে ও পরে রাহুল গান্ধীর অন্তত দুটি ফোন নম্বরে আড়িপাতা বা এর চেষ্টা করা হয়েছে। পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে নিশানায় থাকা ব্যক্তির ফোনের সকল মেসেজ, ক্যামেরা, ভয়েস রেকর্ডার, কন্ট্যাক্ট নাম্বারসহ খুঁটিনাটি প্রায় সব বিষয়েই শতভাগ নজরদারি করা যায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ারের তথ্যমতে, পেগাসাসের নিশানায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বর্তমান দুই মন্ত্রীও রয়েছেন। এদের একজন প্রহ্লাদ প্যাটেল, আরেকজন অশ্বিনী বৈষ্ণ। কিছুদিন আগেই মোদির মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছেন অশ্বিনী। ২০১৭ সালে সংসদ সদস্য থাকাকালে তাকে আড়িপাতার সম্ভাব্য নিশানা বানানো হয়েছিল।

ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার দিয়ে নজরদারির চেষ্টা হয়েছে ভারতের নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর বা পিকের ওপরও। ২০১৪ সালের যে নির্বাচনে জিতে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন নরেন্দ্র মোদি, সেই নির্বাচনে বিজেপির হয়ে কলকাঠি নেড়েছিলেন পিকে। এরপর ভারতের আরও অনেক রাজনৈতিক দল ও নেতার হয়ে কাজ করেছেন তিনি। সবশেষ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জি এবং তামিলনাড়ুতে এমকে স্ট্যালিনকে নির্বাচনে জিততে সাহায্য করেছেন এই প্রশান্ত কিশোর।

পেগাসাস কী
পেগাসাস হলো একটি ম্যালওয়্যার (বিশেষ ধরনের ভাইরাস)। এর মাধ্যমে আইফোন ও অ্যানড্রয়েড ফোনের সব মেসেজ, ছবি, ই-মেইল, কল রেকর্ড বের করা যায়। এ ম্যালওয়্যার ফোন ব্যবহারকারীর অজ্ঞাতেই মাইক্রোফোন চালু করে দেয়। ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসও এটি তৈরি ও বাজারজাত করে থাকে।

২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রথম খবরে আসে পেগাসাস। ফেসবুক মালিকানাধীন সংস্থা হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, চারটি মহাদেশের প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের মোবাইল পেগাসাসের মাধ্যমে হ্যাক করা হয়।

যদিও এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর এনএসও দাবি করে, নিরাপত্তার জন্য নজরদারি চালানোর প্রযুক্তি তৈরি করাই তাদের কাজ। তারা শুধু বিভিন্ন দেশের সরকার, সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাকে পেগাসাস স্পাইওয়্যার বিক্রি করে।

তবে গত রোববার দ্য গার্ডিয়ানসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে ৫০ হাজারের বেশি ফোন নম্বরে আড়িপাতার চাঞ্চল্যকর তথ্য। সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, পেগাসাস বিশ্বের কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো ব্যবহার করছে। তারা আড়িপাতে নিজ দেশের মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিকদের ফোনে। সরকারগুলো এই হ্যাকিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ডিজিটালি হ্যাক করছে। এর মাধ্যমে পাওয়া তথ্যগুলো সরকারগুলো ব্যবহার করছে নিজেদের ইচ্ছেমত কাজে লাগাতে।