পাইকগাছায় শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ কার্যালয় ভাংচুর

6

>>ভাংচুরকারীদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ এমপি বাবুর
>>উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও ও ওসি’র ঘটনাস্থল পরিদর্শন
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:পাইকগাছার সরল বাজারস্থ শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভেঙ্গে ফেলেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী ও ওসি এজাজ শফী।
শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সভাপতি মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানান, পাইকগাছা পৌরসভার ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানে খুলনা জেলা পরিষদের একটি পুকুর রয়েছে। পুকুরটি এলাকাবাসী সুপেয় পানির জন্য ব্যবহার করে থাকেন। বান্দিকাটী পুকুরপাড় নামে এটি পরিচিত। প্রধান সড়কের পাশে পুকুর পাড়ের দক্ষিণ পূর্ব কর্ণারে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের কার্যালয় রয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের কার্যালয়ের মাধ্যমে শেখ রাসেল এর জন্মদিন পালন, বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন এবং করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ কার্যালয়টি ৩টি ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানে হওয়ায় কার্যালয়টি পৌরসভার ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এসএম মুজিবর রহমানসহ এলাকার কতিপয় ব্যক্তি জেলা পরিষদের নামে পুকুরের আংশিক ভরাট করে পুকুর পাড়ে মার্কেট নির্মাণ করছে। মার্কেট নির্মাণ করার পূর্বে প্রশাসনের উপস্থিতি ছাড়াই কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের শক্তি প্রয়োগ করার মাধ্যমে পুকুর পাড়ে যারা দীর্ঘদিন ব্যবসা পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন, সেইসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেছে। এতে একদিকে ক্ষতিগ্রস্তসহ ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা, অপরদিকে পুকুরের আংশিক ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করায় এবং পুকুর পাড়ের গাছ-পালা কর্তন করায় পুকুরের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, আমি জরুরী প্রয়োজনে (মঙ্গলবার) খুলনায় অবস্থান করছি। এমন সময় মুঠোফোনে জানতে পারি মঙ্গলবার সাহারীর পর সবাই যখন ঘুমিয়ে তখন কতিপয় দুর্বৃত্ত শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ কার্যালয়টি ভেঙ্গে ফেলেছে। খবরটি শুনে যেমন খারাপ লেগেছে, তেমনি হতবাক হয়েছি এই ভেবে কাদের এতো দুঃসাহস হলো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় শেখ রাসেল এর নামে গড়া এমন মূল্যবান একটি প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে দিল। তাৎক্ষনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করি। মুহূর্তের মধ্যে এ খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মুঠোফোনে সবখানে ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের অভিযোগ অদৃশ্য শক্তির বলে এলাকার জামায়াত-বিএনপি পরিবারের কতিপয় ব্যক্তি সরকারি সম্পদ জবর দখল ও পরিবার কেন্দ্রিক ফায়দা লুটতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ খবর শুনে চরম ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু। তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুঁটে যান উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী ও ওসি এজাজ শফী। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানান।
ওসি এজাজ শফী জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আশেপাশের অনেককে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে নিয়মিত মামলা রুজু করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, ভাংচুরে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।