পর্দা উঠলো ফুটবল বিশ্বকাপের

জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পর্দা উঠলো ২২তম আসরের।এক যুগ ধরে নানা প্রশ্ন, আলোচনা, সমালোচনা- কাতার বিশ্বকাপ ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই। এসব সঙ্গী করেই জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠল বিশ্বকাপের ২২তম আসরের। ফুরাল আরেকটি বৈশ্বিক আসরের প্রায় সাড়ে চার বছরের অধীর অপেক্ষা।

 

 

রাজধানী দোহা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে, আল খোর শহরের আল বাইত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রোববার রাত সাড়ে আটটায় শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

 

 

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানিকে দেখানো হয় স্টেডিয়ামের বড় পর্দায়। এই সময় উল্লাসে ফেটে পড়েন দর্শকরা। ২০১০ সালে সুইজারল্যান্ডে কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের বিড জেতার পর ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন তিনি।

 

 

 

মাঠে কয়েকটি উটও দেখা যায় অনুষ্ঠানের শুরুতে। এতে ফুটে ওঠে যেন মরুর দেশটির ঐতিহ্য। নাচে-গানে তুলে ধরা হয় কাতারের ইতিহাস, সংস্কৃতি। এরপর মঞ্চে আসেন কিংবদন্তি মার্কিন অভিনেতা মর্গ্যান ফ্রিম্যান। বিশ্বকাপের পথ পরিক্রমা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

 

 

পরে আবার শুরু হয় গান। কাতারের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে আসেন পারফরমাররা। ছিল ঢাক-ঢোল, হাতে তলোয়ার। শোনানো হয় আগের কয়েকটি আসরের থিম সং।

 

 

 

গানের তালে তালে আসরের সব দলের ফ্ল্যাগ নিয়ে আসা হয় মঞ্চে। ছিল অতীতের সব আসরের বিশালাকৃতি মাসকট। এরপর মঞ্চে আসেন কোরিয়ান ব্যান্ড বিটিএস-এর গায়ক জং কুক। পরে ড্রিমারস গানে তার সঙ্গে সুর মেলান কাতারের গায়ক ফাহাদ আল-কোবাইসি।

সব শেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপ্তি টানা হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের। পর্দা ওঠে বিশ্বকাপের।

 

 

 

 

এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে হচ্ছে বিশ্বকাপ। তবে বিশ্বকাপের আয়োজক হতে প্রচুর অর্থের লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে কাতার আয়োজক স্বত্ব পাওয়ার পর থেকেই। এই অভিযোগ যদিও উড়িয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গে শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা।

 

 

 

শুরুতে দেশটির গরম আবহাওয়া এবং ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের মৌসুমের মাঝামাঝি বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে হয় কড়া সমালোচনা। পরে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয় দেশটির মানবাধিকার রেকর্ড, অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের ‘অমানবিক আচরণ’ এবং দেশটির আইনে সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে তুলে ধরার মতো বিষয়গুলো।

 

 

 

কাতারে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সমকামিদের বিষয়ে দেশটির অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানায় অস্ট্রেলিয়া দল। ডেনমার্ক দল জানায়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে পরিবার নিয়ে তাদের খেলোয়াড়রা কাতার ভ্রমণ করবেন না।

এসব প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে বিশ্বকাপের ৩২ দলকে চিঠি পাঠিয়ে ফুটবলে মনোযোগ দিতে বলে ফিফা। পরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করে, মানবাধিকার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটেনের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ‘দা গার্ডিয়ান’ এক প্রতিবেদনে জানায়, কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পাওয়ার পর দেশটিতে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার অন্তত সাড়ে ৬ হাজার অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে কয়েক দফা মন্তব্য ওই সময়ের ফিফা প্রেসিডেন্ট জেপ ব্লাটার, যিনি দুর্নীতির অভিযোগে নিষিদ্ধ হন ২০১৫ সালে।

 

বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন দোহায় সংবাদ সম্মেলনে প্রায় এক ঘন্টার বক্তব্যে সমালোচকদের এক হাত নেন ব্লাটারের পর ফিফা প্রেসিডেন্ট হওয়া জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কাতারের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে প্রতিবেদনকে ইউরোপিয়ানদের ‘ভণ্ডামি’ বলে আখ্যায়িত করেন তিনি। দেশটির অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়ে কথা বলার আগে ইউরোপিয়ানদের নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন ফিফা প্রধান।

বিভিন্ন পক্ষের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যেই এবার পর্দা উঠে গেল বিশ্বকাপের। আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এখন চলবে মাঠের লড়াই।

আন্তর্জাতিক

আপনার মতামত লিখুন :