পরীমনির গ্রেফতার নিয়ে নানা প্রশ্ন

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:25 PM, 14 August 2021

পরীমনির এই এতদিনের রিমান্ডে কী তথ্যাদি পাওয়া গেলো তা কিন্তু এখনো মিডিয়ার কাছে প্রকাশ করেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বুঝলাম তার কাছে মাদক পাওয়া গেছে; কিন্তু এই মাদক সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে কারা জড়িত ছিলো? কারা সরবরাহ করতো মাদক? কারা কারা গ্রহণ করতো এই মাদক? অন্তত এইটুকু জানার অধিকার জনগনের আছে। আরও খবর>>উত্তরা ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাসির ৩ রক্ষিতাসহ গ্রেফতার

কীভাবে প্রকাশ করবে? চারদিকে তাকিয়ে দেখে সব তো আমরা আমরাই! এই ধরুন হারুন* ভাই, মফিজ ভাই, যদু ভাই, মধু ভাই…

নাম প্রকাশ হইলে জাতির সমীপে,
জাত-কুলমান ধরাধামে টিকিবে কেমনে?

যদি মাদক বিষয়ক তথ্য না-ই দিতে পারেন তাহলে ধরে নেবো এই যে ইয়াবা, সিসা, এলএসডি যেসব ভয়ানক মাদকের কথা উল্লেখ করেছেন, ওগুলো মেয়েটিকে ফাঁসিয়ে দেয়ার জন্য আপনারা নিজেরাই ঢুকিয়ে দিয়েছেন, যা আপনাদের যুগ যুগান্তরের অনৈতিক পন্থা। সাবেক ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এডভোকেট নুরজাহান বেগম মুক্তা ডিবিসিকে বলেছেন, “পরীমনির বাসায় র‍্যাব ঢোকার আগে সে আধাঘণ্টা সময় পেয়েছে। এই সময়টাতে সে নাকি মদের বোতলগুলো খালি করেছে ফেলেছে। তাই যদি হয় তবে সে ঐ সময়ের মধ্যে ইয়াবা, সিসা, এলএসডি ঐসকল ভয়ানক মাদকগুলোও অন্তত কমোডে ফ্লাশ করে ফেলতে পারতো।

তবুও মেনে নিলাম, তার কাছে অনেক কিছু পাওয়া গেছে। তার মতো ভয়ানক অপরাধী এ বাংলায় আর একটিও নাই; তবে এই অপরাধের সাথে কারা জড়িত সেই সকল মাফিয়া গডফাদারদের নাম প্রকাশ করুন। আর যদি তা না-ই পারেন, তবে মেয়েটিকে কেন হেনস্তা করা?

আর একটি কথা না বললেই নয়, দুই শ্রেণীর মানুষ চায় না পরীমনি মুক্তি পাক। এই দুই শ্রেণী হলো-

১. সমাজের নামীদামী খ্যাতি অর্জনকারী উচ্চপদস্থ সেই সকল এলিটরা যারা পরীমনিকে মহাভারতের অভিমুণ্যের মতোই চক্রব্যূহে প্রবেশ করিয়েছেন এবং অভিমুণ্যের মতোই নির্মমভাবে মারার চেষ্টা করছেন, তাদের একটাই ভয় এখন, যাতে না নাম প্রকাশ হয়ে এতদিনের অর্জন করা খ্যাতি ধুলিসাৎ হয়ে যায়।

২. আরেক শ্রেণী হলো, যারা পরীমনির মতো এতো সুন্দর লাস্যময়ী একটি নারীকে কামনা করেও লালসা মেটাতে পারেনি এবং জানে কোনোদিন পারবেও না, তাদের এই অবদমিত যৌনবাসনা থেকে তাদের এই মহাউল্লাস এবং তারা কখনোই চায়না এই মেয়েটি মুক্তি পাক।

একটাই আপসোস, কেউ বোঝার চেষ্টাও করলো না, এমনকি এ সমাজের অনেক নারীও বুঝলো না যে পরীমনিকে আলোচিত সেই বোটক্লাবের ধর্ষণ-চেষ্টার অভিযোগের কারণে ব্যবসায়ী নাসির মাহমুদ তার লম্বা হাতের ইশারায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে র‍্যাব অভিযানের মাধ্যেমে মেয়েটি দিয়েছে।
আর কারো মনে একটি বার প্রশ্নও জাগলো না, কী করে নাসির মাহমুদ এতো দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এলো।
যেটুকু জানি, আলোচিত সেই বোট ক্লাবটি অবৈধভাবে দখলকৃত জমিতে স্থাপিত এবং সেই ক্লাবের বর্তমান সভাপতি সাবেত র‍্যাব সর্দার বেনজির আহমেদ।

সর্বোপরি আমি একজন লেখক এবং মানবাধিকারকর্মী হিসেবে পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে অন্যায়ভাবে লাঞ্ছিত হওয়া একজন নারী ‘অভিনেত্রী পরীমনি’র মুক্তি দাবি করছি।

#লেখক, মানবাধিকার কর্মী,
মুক্তা শেরপা

আপনার মতামত লিখুন :