পরকীয়ার সম্পর্ক বাঁচাতে নানাকে হত্যা

ছবিতে কামনা ও তার প্রেমিক যুবক রাশেদ

পরকীয়ার সম্পর্কে বাঁচাতে নানাকে হত্যা করলো নাতি ও তার প্রেমিক যুবক। এখানেই শেষ না, এই হত্যায় তালাকী স্বামীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছেন প্রেমিক যুগল। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনাটি চৃয়াডাঙ্গার।

নাতি জামাই জাহিদ হাসান না, পরকীয়ার কারণেই নাতি কামনা ও তার প্রেমিক রাশেদ আলী মিলে হত্যা করে নানা শামসুল শেখকে। তদন্তে নেমে পাঁচ দিনের মাথায় হত্যার ক্লু-উদঘাটন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদুর রহমান।

তিনি বলেন, পরকীয়ার সম্পর্ক বাঁচাতে স্বামী জাহিদ হাসানকে ডিভোর্স দেন কামনা খাতুন (১৯)। এরপর প্রেমিক যুবক রাশেদ আলীর সাথে চুকিয়ে পরকীয়ার সম্পর্ক চালাতে থাকেন কামনা। অনৈতিক এই কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ান কামনা খাতুনের নানা শামসুল শেখ। প্রেমিক রাশেদ আলী ও কামনা নানাকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গভীর রাতে প্রেমিক রাশেদ আলী তার প্রেমিকা কামনা খাতুনের বাড়িতে আসে। ঘুমন্ত নানা শামসুল শেখের দুই পা চেপে ধরে প্রেমিক রাশেদ, আর নাতি কামনা খাতুন মুখ চেপে ধরে ইনজেকশনে পুশ করে দেয় নানার ঘাড়ে। একদিন পর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামসুল শেখের মৃত্যু হয়।

কামনা খাতুন পুলিশকে জানিয়েছিল, ২৯ নভেম্বর রাত ১২ টার দিকে আমার নানা শামসুল শেখ ঘাড়ের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। পরে আমি ও আমার নানি নানার বিছানার পাশে যেয়ে দেখি বিছানার পাশে একটি খালি ইনজেকশনের সিরিজ পড়ে আছে। এ সময় জাহিদ হাসান ও অজ্ঞাত দুজনকে পালিয়ে যেতে দেখি। আমাদের বাড়িতে কোনো পাঁচিল না থাকায় নানার ঘরে যে কেউ ঢুকতে পারে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমার নানার ওপর প্রতিশোধ নিয়েছে জাহিদ হাসান।

কিছুক্ষণ পর নানা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা দ্রুত তাকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। পরের দিন সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার দিন বুধবার সকালে কামনা ঘাতুনের মামা রফিকুল ইসলাম কামনার ডিভোর্সকৃত স্বামী ও অজ্ঞাত ২/৩ জনকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ওইদিন বিকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক মাসুদুর রহমান জানান, জাহিদ হাসানকে গ্রেফতার করি। তারপর হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদে কিছুটা সন্দেহ হয়। এরপর আমি বিভিন্নভাবে খোঁজ খবর নিয়ে দেখি হত্যাকাণ্ডের রাতে জাহিদ উপস্থিত ছিলো না। তারপর নাতি কামনা খাতুনকে থানায় ডাকি। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে প্রকৃত সত্য স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তিতে প্রেমিক রাশেদ আলীকে রাশেদ আলীকে গ্রেফতার করি, রাশেদও হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে।

প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, পরকীয়া কেড়ে নিয়েছে একটি নিস্পাপ মানুষের প্রাণ। অপমৃত্যুর শিকার হয়েছেন কামনার নানা শামসুল শেখ।

আপনার মতামত লিখুন :