নড়াইলে বিষ ঢেলে ৫ লাখ টাকার চিংড়ি নিধন

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:39 PM, 01 September 2021
সংগৃহিত

নড়াইলের কালিয়ার আমবাড়িয়া গ্রামে একটি চিংড়ি ঘেরে বিষ ঢেলে প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ নিধন করেছে স্থানীয় প্রতিপক্ষরা। একই রাতে অপর একটি চিংড়ি ঘের থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে গেছে। ঘের মালিকরা এই অভিযোগ করেছেন।

মঙ্গলবার দিনগত গভীর রাতে এই দুটি ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ ও ঘের মালিকরা জানিয়েছেন।

সূত্রের অভিযোগে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিনগত রাতে কালিয়া উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের মাজহারুল ইসলাম শেখের চিংড়ি ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে প্রতিপক্ষরা। বিষ প্রয়োগের ফলে প্রায় ৫ লাখ টাকার চিংড়ি ও সাদা মাছ মরে গেছে। মাজহারুল ইসলামের ভাতিজি সাবিহা সুলতানা ওরফে পারুল বেগম জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গ্রামের প্রতিপক্ষ শিমুল শেখ, দিদার শেখ, মেহেদী, জাহাঙ্গীর, সেকেন্দার ও তাদের লোকজন মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে এই ক্ষতি করেছেন। এছাড়া একই গ্রামের আমিনুর রহমানের স্ত্রী লিজা আক্তার জানান, তাদের ঘেরে ১০ হাজার চিংড়ির রেণু ছাড়া হয়েছে। সেই রেণু এখন বেশ বড় হয়েছে। একই রাতে তাদের ঘেরের প্রায় ৪ লাখ টাকার চিংড়ি মাছ মেরে নিয়ে গেছে প্রতিপক্ষরা। যারা মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করেছে তারাই এই ঘেরের মাছ ধরে নিয়ে গেছে বলে জানান তিনি। এছাড়া ঘেরে থাকা তিনটি স্যালো মেশিনও চুরি হয়ে গেছে। আমাদের আর্থিক ক্ষতি সাধন করতে প্রতিপক্ষ শত্রুরা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানান তারা।

এ ব্যাপারে শিমুল শেখ, দিদার শেখসহ অন্যরা জানান, চিংড়ি ঘেরে বিষ প্রয়োগের ঘটনার সঙ্গে আমরা জড়িত না। আমাদের মান সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য প্রতিপক্ষরা মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, আমবাড়িয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কাতেবার শেখ (৫৫) হত্যাকান্ডকে পুঁজি করে গ্রামের কতিপয় চিহ্নিত লোক অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই হত্যাকন্ডের পর নিহত কাতেবার বিরোধী পুরুষ লোকজন বাড়িছাড়া। নারী ও শিশুরা আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এ পক্ষের নিরীহ লোকজনের কাছে গোপনে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। অজানা আশংকার মধ্যে রয়েছেন এই গ্রামের লোকজন।
আমবাড়িয়া গ্রামে দায়িত্বরত নড়াইল রিজার্ভ পুলিশের এএসআই সঞ্জয় কুমার মল্লিক জানান, দুটি চিংড়ি ঘেরে মাছের ক্ষতি সাধনের ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত করছে।

কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কণি মিয়া জানান, আমবাড়িয়া গ্রামে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বভাবিক রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখানে কেউ অশান্তি পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইলে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

প্রসঙ্গতঃ ১২ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮টার দিকে সাবেক ইউপি সদস্য কাতেবার শেখ বনগ্রাম বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষরা ওৎ পেতে থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ দিন চিকিৎসা গ্রহণের পর কাতেবার শেখ সোমবার দিনগত রাত ১০টার দিকে মারা যান।

এনিয়েই দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে।

আপনার মতামত লিখুন :