নড়াইলে বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ

13

নড়াইল প্রতিনিধি:দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নড়াইলের বাঁশগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরীব অসহায় মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভিজিডির কার্ড বিতরণেও জালিয়াতি আশ্রয় গ্রহণ করেছেন তিনি। ভুক্তভোগীরা ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুলের আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, গরীবদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল দারিয়াপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী জিল্লুর রহমান বাবলুর কাছ থেকে দেড়লাখ টাকা, হোগলাডাঙ্গা গ্রামের সজীব দাসের ২ হাজার ৫শ টাকা, দারিয়াপুর গ্রামের আনোয়ার মোল্যার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা, বাহাউদ্দিন শেখের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা, লাভলু সরকারের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। টাকা নিয়েও চেয়ারম্যান তাদের কোন ঘর দিতে পারেননি। টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা টালবাহানা শুরু করেন। এছাড়া হোগলাডাঙ্গা গ্রামের মৃত অংশপতি বিশ্বাসের বিধবা স্ত্রী উন্নতি বিশ্বাসকে রাস্তায় আরএমপিতে চাকরি দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে তাকে চাকরি না দেয়ায় অভাবের তাড়নায় তিনি স্বামীর ভিটা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
সূত্রে জানা গেছে, ভিজিডির কার্ড বিতরণেও তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। দুস্থ, গরীব ও অসহায় মহিলাদের পরিবর্তে স্বচ্ছল পরিবারের নারীদের নামে ভিজিডির কার্ড প্রদান করেছেন এবং নাম-ঠিকানা বিহীন নারীদের নামে কার্ড করে তা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইউনিয়নের যদুনাথপুর গ্রামের জিয়াউর রহমান মোল্যার সাড়ে ৫ একর ধানী জমি এবং বাড়িতে বিল্ডিং থাকা সত্বেও তার স্ত্রী বিউটি বেগমের নামে ভিজিডির কার্ড দেয়া হয়েছে। একই গ্রামের সাহেব আলীর ধানী জমি এবং বাড়িতে একতলা বিশিষ্ট বিল্ডিং থাকা সত্বেও তার স্ত্রী রুপা খানমের নামে ভিজিডির কার্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া যদুনাথপুর গ্রামের বাবু মোল্যার স্ত্রী রিক্তা খানম, তবিবর মৃধার স্ত্রী জান্নাত আরা এবং আছাদের স্ত্রী জেসমিন নামে অস্তিত্বহীনদের নামে ভিজিডির কার্ড দেয়া হয়েছে। নিয়ম বহিভূর্তভাবে ইউনিয়নের দফাদার ও চৌকিদারদের স্ত্রীর নামে ভিজিডির কার্ড বরাদ্দ দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল।
এ ব্যাপারে বাঁশগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি নিয়ম বহিভুর্তভাবে কোনো ভিজিডি কার্ড দেইনি। এছাড়া ঘর প্রদানের নামে কোন টাকা গ্রহণ করিনি।
উল্লেখ্য, নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলামকে দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবু জাফর রিপন স্বাক্ষরিতপত্রে ওই বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।
নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইয়ারুল ইসলাম বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের এলজিএসপি-৩ এর বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত করতে ডিএফ মো: আব্দুল হালিমের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করার অভিযোগ পাওয়া যায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এনিয়ে ওই ইউপির সচিব মো: তৌফিক রহমান ও মহিলা ইউপি সদস্য কবিতা বেগম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্তে বিষয়টির সত্যতা প্রমাণিত হলে স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানানো হয়।