নড়াইলে পুলিশ স্বামীর পরকীয়ায় দিশেহারা স্ত্রী-সন্তান

13

>>কনস্টেবল মহিদুলের খপ্পর থেকে স্ত্রীকে ফেরত চান ব্র্যাককর্মী স্বামী ইকবাল
নড়াইল প্রতিনিধি:পরকীয়ায় জড়িয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন ও শিশু সন্তানদের ফেলে পরের স্ত্রীকে নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নড়াইলের এক পুলিশ কনস্টেবল। যশোরের শার্শা থানায় কর্মরত অবস্থায় পরকীয়া প্রেমিকার সাথে অন্তরঙ্গ অবস্থায় ধরা পড়লে তাকে ক্লোজড করা হয়। বিভাগীয় মামলাও হয়েছে কিন্তু তারপরও থেমে নেই পুলিশ কনস্টেবল মহিদল আলমের পরকীয়া প্রেম।
এদিকে শার্শা থানায় পুলিশ কনস্টেবলের হাত থেকে নিজ স্ত্রীকে ফেরত পাওয়ার আবেদন করেছেন হতভাগ্য এক স্বামী। অন্যদিকে শিশু সন্তানসহ নিজের নিরাপত্তার জন্য নড়াইলের পুলিশ সুপারের কাছে আরজি জানিয়েছেন হতভাগ্য স্ত্রী মিশরী খানম। আদালতে মামলাও করেছেন তিনি। স্বামী এবং দেবর কর্তৃক নিজ এবং পরিবারের জীবনের ঝুঁকি থাকায় ২ জুন নড়াইল সদর থানায় জিডি করেছেন মিশরী।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে নড়াইল সদরের নারায়নপুর গ্রামের পুলিশ কনস্টেবল মহিদুল আলমের সাথে বিয়ে হয় রতডাঙ্গা গ্রামের মিশরী খানমের। এই পরিবারে ১১ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যা এবং ৬ বছরের একটি শিশু পুত্র রয়েছে। বিয়ের পর ভালই চলছিলো সংসার। খুলনায় ৫ বছর একসাথে বাড়িভাড়া করে থেকেছেন এই দম্পতি। দৃশ্যপট পাল্টে যায় যশোরের শার্শার থানায় থাকাকালীন। এখানে বাগআঁচড়া ফাঁড়িতে থাকাকালীন কনস্টেবল মহিদুল সুমি খানম নামের এক নারীর সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। সুমীর স্বামী শার্শায় ব্র্যাকের মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এই পরিবারে ১৪ বছরের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি নিজ বাড়িতে স্ত্রী সুমি খানমের সাথে কনস্টেবল মহিদুলকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে সুমীর স্বামী ইকবাল হোসেন। সেই ছবি পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করে মহিদুলের খপ্পর থেকে স্ত্রীকে ফেরত পাওয়ার আবেদন করেন হতভাগ্য এই স্বামী। এ ঘটনায় ৯ জানুয়ারি কনস্টেবল মহিদুলকে বাগআঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ক্লোজড করা হয়। ২ ফেব্রুয়ারি তার নামে বিভাগীয় মামলা করে যশোর পুলিশের রিজার্ভ অফিস।
এই সময়ে কনস্টেবল মহিদুল তার স্ত্রী ও পরিবারের কোন খোঁজ খবর রাখেনি। উল্টো ২০ মার্চ মহিদুলের ভাই সোহাগ খান ভাইয়ের স্ত্রী মিশরী খানমকে মারধর করে এ ব্যাপারে কোন কথা না বলার জন্য শাসায়। ক্লোজড থাকা অবস্থায় ৪ এপ্রিল পরিবারের কথা বলে ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসে মহিদুল। এসময় স্ত্রী মিশরীকে মারধর করে এবং সুমিকে বিয়ে করার জন্য কাবিননামায় স্বাক্ষরের হুমকি দেয়। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য ৫ এপ্রিল মিশরী খানম নড়াইলের পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। ৮ এপিল স্বামী পুলিশ কনস্টেবল মহিদুল, তার ভাই সোহাগ খান ও প্রেমিকা সুমি খানমের নামে পারিবারিক আদালতে মামলা করেন মিশরী খানম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইকবালের স্ত্রী সুমি খানমের বাবার বাড়ি ভারতের হাওড়া হওয়ায় বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে পাসপোর্টে পার হতে গিয়ে নানা ধরনের সহায়তা করতেন কনস্টেবল মহিদুল। সেই সুবাদে ইকবাল ও তার স্ত্রী সুমির সাথে ঘনিষ্টতা গড়ে ওঠে। যা পরবর্তীতে পরকীয়া প্রেমে রূপ নেয়।

সুমীর স্বামী ইকবালের অভিযোগ, পুলিশ কনস্টেবল মহিদুলের এই আচরণে আমি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। আমার শিশু সন্তানটি অসহায় হয়ে পড়েছে তার মায়ের জন্য। আমি পুলিশ মহিদুলের উপযুক্ত শাস্তি চাই এবং আমার স্ত্রী সুমিকে ফেরত চাই।

মিশরী খানমের পিতা ইকরামুল হকের অভিযোগ, মহিদুল পরকীয়া প্রেমিকা সুমীকে নিয়ে নড়াইলের শাহাবাদ ও আশেপাশের এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে থাকছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও ক্লোজড অবস্থায় কিভাবে এইসব করার সাহস পাচ্ছে তা আমার বোধগম্য হয় না।

কনস্টেবল মহিদুল আলমের সাথে কথা বলতে তার ব্যবহৃত ০১৭১৯৪০৮৯০৭ নম্বর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাই আমি ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলে সংযোগ বিছিন্ন করে দেন।

এ ব্যাপারে যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার (শার্শা সার্কেল) জুয়েল ইমরান বলেন, তাকে (কনস্টেবল মহিদুল) এই অপরাধে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে, বিভাগীয় মামলাও হয়েছে। সে যে অপরাধ করেছে, তাতে পার পাবে না। আশা করি তার স্ত্রী ও পরিবার ন্যায় বিচার পাবেন।

নড়াইল সদর থানায় সদ্য যোগদানকারী ওসি মোহাম্মদ শওকত কবীর জিডি প্রসঙ্গে বলেন, এটা যাচাই বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া পুলিশের বিভাগীয় মামলার তদন্ত সঠিক নিয়মেই চলবে।