নড়াইলে নববধূ নন্দিতা হত্যায় গ্রেফতার নেই:স্বজনদের ক্ষোভ

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:30 PM, 08 August 2021

নড়াইল প্রতিনিধি:মামলা দায়ের করার সপ্তাহ পার হলেও গ্রেফতার করা হয়নি গৃহবধূ নন্দিতা সরকার হত্যাকান্ডের আসামিদের। মর্মস্পশী এই হত্যাকান্ডের আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় বাদীপক্ষের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মামলাটির বাদী নিহতের ভাই উজ্জ্বল সরকার তার বোনের নির্মম হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আরও খবর>>কালিয়ায় বিয়ের মাত্র ৮ মাসের মাথায় নববধূর আত্মহত্যা

সূত্রে জানা গেছে, নিহত নন্দিতা সরকার নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি থানার পুটিমারি গ্রামের নিতাই সরকারের মেয়ে। মাত্র আটমাস আগে লোহাগড়া উপজেলার রামপুর এলাকার গোপাল রায়ের ছেলে ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসায়ী মিঠুন রায়ের (২৫) সঙ্গে নন্দিতার বিয়ে হয়। নন্দিতার সঙ্গে মিঠুনের প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে উঠার পর দু’পরিবারের মধ্যে আলোচনা হয়। বিয়ে হলে তারা অনেক সুখে শান্তিতে থাকবে-মিঠুন পরিবারের এমন আশ্বাসের প্রেক্ষিতে নন্দিতার পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নিয়ে সামাজিকভাবে বিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের পর হয় তার উল্টো। দাম্পত্য জীবনের শুরুতেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-কলহ লেগে থাকতো। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিঠুন তার স্ত্রী নন্দিতার উপর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন চালাতো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিঠুন রায়ের প্রতিবেশী এক নারী জানান, ঘটনার দিনও মিঠুন ও নন্দিতার মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। নন্দিতাকে মিঠুন বকাঝকা করলে আমি প্রায় তাদের বাড়িতে এসে দু’জনকে বুঝাতাম কিন্তু মেয়েটি বাঁচতে পারলো না।
নন্দিতার ভাই ও মামলার বাদী উজ্জ্বল সরকার জানান, বিয়ের পর তার ছোট বোনের স্বামী মিঠুন ও পরিবারের সদস্যরা যৌতুক দাবি করে নন্দিতাকে মারধরসহ মানষিক নির্যাতন শুরু করে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে পারিবারিক কলহের জের ধরে নন্দিতাকে মারপিট করতো মাদকাসক্ত মিঠুন ও পরিবারের লোকজন। নির্যাতন সইতে না পেরে নন্দিতা স্বামীর বাড়ি থেকে কয়েকবার বাবার বাড়ি চলে যায়। পরে দু’পরিবারের সদস্যরা বসাবসি করে আবার নন্দিতাকে স্বামীর বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু সেই নির্যাতন ফের শুরু হয়। গত ১ আগস্ট রাত ১১টার দিকে মাদকাসক্ত মিঠুন ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার বোনকে হত্যার পর ঘরের আড়ার সঙ্গে কাপড় পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে নন্দিতা আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার দেয়। এক পর্যায়ে নন্দিতার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা লোহাগড়া হাসপাতালে লাশ ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ঘটনা উল্লেখ করে নন্দিতার ভাই উজ্জ্বল সরকার বাদী হয়ে গত ২ আগস্ট লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে বিয়ের ৮মাসের মাথায় নন্দিতার অকাল মৃত্যুকে পরিবারের সদস্য, স্বজন কিংবা প্রতিবেশী কেউই মেনে নিতে পারছেন না। তরতাজা তরুণী নন্দিতা শ্বশুর বাড়ির লোকজনের নির্যাতনের কাছে হেরে গিয়ে সবাইকে কাঁদিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে-একথা ভাবতেই ডুকরে কেঁদে উঠছেন তার মা কবিতা সরকার, বাবা নিতাই সরকার ও ভাই উজ্জ্বল সরকারসহ স্বজনরা। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট ও আদরের ছিলেন নন্দিতা। স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের কাছে জীবনযুদ্ধে হেরে না ফেরার দেশে চলে যেতে হয়েছে ননিন্দতাকে। নন্দিতা এবছর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মিঠুন রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হেনা মিলন জানান, মৃত নন্দিতা সরকারের ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেলে বোঝা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। এ ঘটনায় ৫জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তপূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মামলার আসামিদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করে করেন ওসিন।

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :