নড়াইলে দু’পক্ষের সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে দুই দারোগা হামলার শিকার

37

>>খোয়া যাওয়া পিস্তল দুই ঘন্টা পর উদ্ধার
নড়াইল (লোহাগড়া) প্রতিনিধি:নড়াইলের লোহাগড়ায় সংঘর্ষ সামাল দিতে গিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তা হামলার শিকার হয়েছেন। এসময় দুবর্ৃৃত্তরা এক পুলিশ কর্মকর্তার পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। দু’ঘন্টা পর পুলিশের খোয়া যাওয়া ওই পিস্তল উদ্ধার হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কুমড়ি-লুটিয়া-মাউলী এলাকায় কুমড়ি পূর্বপাড়ার সরদার ওহিদুর রহমান নেতৃত্বাধীন জালাল মোল্যা, টুকু কটা, ইসলাম মোল্যা গ্রুপের সাথে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চরমাউলি গ্রামের রোকন উদ্দিন মোল্যা ও লুটিয়ার ফিরোজ মেম্বরের নেতৃত্বাধীন গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

সরদার ওহিদুর রহমান নেতৃত্বাধীন গ্রুপের লোকজন অসহায় লোকদের ওপর জুলুম-নির্যাতন করতো। ওই গ্রুপের লোকদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে চরমাউলী, মাটিয়াডাঙ্গা, খালচর, গাজিপুর, লুটিয়াসহ পাঁচ গ্রামের লোক সংঘবদ্ধ হয়ে পঞ্চপল্লী নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলে।
পঞ্চপল্লী গ্রুপের সদস্য চরমাউলি গ্রামের ইকবল ও রব্বানী বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিল থেকে ধান কেটে বাড়ি ফিরছিলেন। তাদের দু’জনকে মারধর করতে সরদার ওহিদুর রহমান নেতৃত্বাধীন গ্রুপের লোকজন রামদা, ছ্যানদা, লাঠিসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিলের মাঝে ঢুকে পড়ে। গ্রামের মহিলারা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পঞ্চপল্লী গ্রুপের সদস্যরা টের পেয়ে পাল্টা জবাব দিতে সেখানে চলে আসে। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পেয়ে লোহাগড়া থানার এএসআই মীর আলমগীর হোসেন এবং এএসআই মিকাইল কুমড়ি পূর্বপাড়াস্থ টিকেরডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে প্রবেশ করেন। এসময় সরদার ওহিদুর রহমান গ্রুপের সনি সরদারকে ধরে ফেলেন এএসআই মীর আলমগীর হোসেন। তাৎক্ষনিক সরদার ওহিদুর রহমান গ্রুপের পলাশ সরদার, আজগার মোল্যা, সাদ্দাম কটা, সাজ্জাদ কটা, আজাদ কটাসহ প্রায় ২৫/৩০ জন এএসআই মীর আলমগীর হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে সনি সরদারকে ছিনিয়ে নেয়। এসময় এএসআই মিকাইলও মারপিটের শিকার হন। দুর্বৃত্তরা মারপিটের সময় এএসআই মীর আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে সরকারি পিস্তল কেড়ে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করের। এদিকে পিস্তল খোয়া যাওয়ার দু’ঘন্টা পর পুলিশ মাউলী সড়কের পাশ থেকে ওই পিস্তল উদ্ধার করে।

লোহাগড়া থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, সরদার ওহিদুর রহমানের গ্রুপ পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। ছিনিয়ে নেয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত সরদার ওহিদুর রহমান গ্রুপের সদস্যরা পালিযে গেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
নড়াইলের পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় (পিপিএম) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।