ন্যায্য মূল্য না থাকায় সীমাহীন কষ্টে লবন চাষী পরিবার

33
উৎপাদিত লবণ মাঠ থেকে নিয়ে যাচ্ছে চাষীরা

লবণের ন্যায্য মূল্য না থাকায় মহেশখালীর লবণ চাষীরা উদ্বিগ্ন। যে কোনো মুহূর্তে মহেশখালীর লবণ শিল্প ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে চাষীরা লবণ মাঠ ছাড়তে শুরু করেছে। উল্লেখ্য যে, মহেশখালীর লবণ মাঠে উৎপাদিত লবণ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ১৬০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা। সেই হিসাবে ১ কেজি লবণের দাম পড়ে ৪ টাকা।

অথচ মহেশখালীর সেই লবণ চাষীদের বাজারজাতকৃত লবণ দেশের মানুষকে কিনে খেতে হচ্ছে ১ কেজি ৪০ টাকায়। লবণ চাষীদের সাথে আলাপ করে জানা যায় যে, বর্তমানে লবণের যে দাম সেই দামে লবণ বিক্রি করতে হলে লবণ উৎপাদন ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে। মহেশখালীতে উৎপাদিত যে লবণ প্রতি কেজি ৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে সেই লবণ উৎপাদন করতে প্রতি কেজি খরচ হয় ৭ টাকা।

উল্লেখ্য, মহেশখালীতে উৎপাদিত এই লবণ সারা বাংলাদেশে যোগান দিয়ে থাকে। অথচ এই লবণ শিল্প এখন ধ্বংসের পথে রয়েছে। বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও লবণ চাষী আলহাজ্ব সিরাজ মিয়া বাঁশি বলেন, মহেশখালীর প্রায়ই পরিবার লবণ চাষের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন লবণ মৌসুমের সময় টাকা পায় জমির মালিক। জমি লাগিয়ত নিয়ে লবণ উৎপাদন করে তা বিক্রির মাধ্যমে টাকা পায় লবণ চাষীরা। অপরদিকে লবণ পরিবহন করে টাকা পায় শ্রমিকরা। লবণ উৎপাদনে ব্যবহৃত পলিথিন বিক্রি করে টাকা পায় ব্যবসায়ী।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও লবণ চাষী আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফোরকান জানান, বর্তমানে লবণের ন্যায্য মূল্য না থাকায় মহেশখালীর হাজার হাজার পরিবার সীমাহীন কষ্টে দিন যাপন করছে। খবর নিয়ে জানা যায়, আয় উপার্জন না থাকায় মহেশখালীতে লবণ চাষের সাথে সম্পৃক্ত অনেক পরিবার সন্তানের পড়ালেখাও চালিয়ে নিতে পারছেনা।

মহেশখালীর লবণ শিল্পকে বাঁচাতে হলে লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। বড় মহেশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও লবণ চাষী আলহাজ্ব সিরাজ মিয়া বাঁশি, সাধারণ সম্পাদক ও লবণ চাষী সমিতির সদস্য মোঃ নুরুল আমিন সহ লবণ চাষি ও ব্যবসায়ীরা লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।