নৌকার প্রার্থী বিউটির মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আ’লীগের

21

চিতলমারী প্রতিনিধি:বাগেরহাটের চিতলমারী সন্তোষপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী বিউটি আক্তার ঋণ খেলাপী থাকার পরও তার মনোনয়নপত্র বৈধ করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
শনিবার (২০ মার্চ) রাত ৮ টায় চিতলমারী উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সন্তোষপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হরেন্দ্রনাথ শিকদার। এ সময় সভাপতি রসুল মাঝি ও সহ-সভাপতি মল্লিক রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করে হরেন্দ্রনাথ শিকদার। তিনি বলেন, গত ১৯ মার্চ সকল ইউনিয়নের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়েছে। সরকারি বিধান ও নির্বাচনী আইনমতে কোন ঋণ খেলাপী ব্যক্তি এই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। কিন্তু চিতলমারী উপজেলার ৭ নং সন্তোষপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী বিউটি আক্তার ঋণ খেলাপী হওয়া সত্বেও তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিউটি আক্তার সোনালী ব্যাংক খুলনা কর্পোরেট শাখা হতে জয় জুট মিল’স লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে ঋণ খেলাপী আছেন। এ মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয় থেকে ১৮ মার্চ তারিখে ব্যাংকের যুগ্ম-পরিচালক সুপর্ণা রানী মোহন্ত স্বাক্ষরিত চিঠিতে চিতলমারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের রির্টানিং অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলামকে অবহিত করা হয়েছে। যার সূত্র নং-সিআইবি-৫(১)/২০২১-১২০০। তার ঋণ খেলাপী হওয়া সত্বেও সংশ্লিষ্ট রিটানিং অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম বিউটি আক্তারের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। যা নির্বাচন আচরণ বিধি ও সরকারি নিয়ম নীতির বিরুদ্ধে। বিউটি আক্তারের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণায় জনগণের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তাই আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় বিউটি আক্তারের মনোনয়নপত্র বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী বিউটি আক্তার মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, চলতি মাসের ২ তারিখে আমার নামে সোনালী ব্যাংক খুলনা কর্পোরেট শাখায় যে ঋণ ছিল তা পরিশোধ করে দিয়েছি। ঋণ পরিশোধের প্রত্যয়ণপত্র আমার কাছে সংরক্ষিত আছে।
এ ব্যাপারে সন্তোষপুর ইউনিয়নের রিটানিং অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম সাংবাকিদের বলেন, ১৬ মার্চের নির্বাচন কমিশনের পত্রের আলোকে ১৯ তারিখ বেলা ৩ টার মধ্যে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়। এ সময়ের মধ্যে সন্তোষপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী বিউটি আক্তারের মনোনয়নপত্রে কোন প্রকার ত্রুটি না থাকায় তা বৈধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বিকাল ৪.২০ টার সময় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রেরিত ওই প্রার্থীর ঋণখেলাপী থাকার চিঠি আসে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে লিখিত ভাবে অবহিত করি।
তবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মজিদ সাংবাদিকদের বলেন, বিধান অনুযায়ী কোন মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা বা বাতিল করার ক্ষমতা শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট রিটানিং কর্মকর্তার রয়েছে।

অন্তর্দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর গত তিন দিনের ব্যবধানে একাধিক মেম্বার প্রার্থীর নেতৃত্বে হামলা পাল্টা হামলায় উভয় গ্রুপের কমপেেক্ষ ৫৫জন নেতা-কর্মী রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। পাশাপাশি সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার উত্তর সোনাতলা গ্রামের দুইটি দোকানে আগুন দেয়ার ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ নিয়েও শংঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১৯ মার্চ সকালে উপজেলার ৪নং-সাউথখালী ইউনিয়নের উত্তর সোনাতলা গ্রামের ১নং সোনাতলা ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী জাহাঙ্গীর হাওলাদারের নেতা-কর্মীদের সাথে একই ওয়ার্ডের প্রতিদ¦ন্ধী প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম ডালিমের নেতা কর্মীদের সাথে এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়া একই দিন উত্তর সাউথখালীর মেম্বার প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম হালিম ও প্রতিদ¦ন্দ¦ী প্রার্থী আল-আমিনের সর্মথকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়গ্রুপের প্রায় ৫৫ জন নেতা-কর্মী রক্তাক্ত জখম হন । এ ঘটনায় প্রার্থী জাহাঙ্গীর হাওলাদার বাদী হয়ে ডালিম গ্রুপের ৪০ নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে, উত্তর সাউথখালী ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী সাইফুল ইসলাম হালিম আল-আমিন গ্রুপের ২৫ সর্মথকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ওই ঘটনার জের ধরে (শুক্রবার) রাতে সোনাতলা এলাকার দুটি দোকান ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া, ১৮ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সকালে উপজেলার উত্তর রাজাপুর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী জাকির হোসেন খানের কর্মী আব্দুল হালিম গাজীকে লাঞ্ছিত করে তার দোকন বন্ধ করে দেন প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুর রহমান জানান, সোনাতলা ও উত্তর সাউথখালী এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় ইতিমধ্যে থানায় পৃথক দুইটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং পুলিশের নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে নির্বাচনকে পুঁজি করে কেউ পরিবেশ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করলে সে যেই হোক না কেন তাকে ছাড় দেয়া হবে না।