নৌকার আদলে প্রস্তুত প্রধানমন্ত্রীর সভামঞ্চ

বর্ণিল সাজে যশোর, সমাবেশ মাঠে নেমেছে ডগ স্কোয়াড,

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:40 PM, 22 November 2022
প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ মাঠ

বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থল শামস-উল-হুদা স্টেডিয়াম সেজেছে নতুন সাজে। বাদ পড়েনি যশোর শহর। শেষ মুহূর্তে যশোরে জনসমুদ্র নামবে-এমন প্রত্যাশা করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ  নেতৃবৃন্দ।

২৪ নভেম্বর দুপুর ১২টার আগেই মাঠে তিল ধারণের ঠাঁই থাকবে না বলে  মন্তব্য করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন। তাঁর ধারণা  মাঠ উপচে যশোর এমএম কলেজ. শহরের ঈদগাহ মাঠ ও টাউনহল ময়দানসহ আশপাশের অলিগলি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাবে। এরইমধ্যে যশোর স্টেডিয়ামের গ্যালারি লাল-সবুজ রঙে রাঙানো হয়েছে। দৃষ্টি কাড়ছে বিশাল আকৃতির নৌকার মঞ্চ। সুপেয় পানি, মগ ও টয়লেট-বাথরুম স্থাপনের কাজও শেষ হয়েছে।

 

মঙ্গলবার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মাঠে নামিয়েছে ডগ স্কোয়াড। এক কথায় প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে সভাস্থল। উৎসবের নগরীতে রুপ নিয়েছে যশোর। যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন এসবের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ জানান, সভামঞ্চ প্রস্তুত। নৌকার আদলে নির্মিত মঞ্চের দৈর্ঘ ১২০ ফুট ও প্রস্থ ৪০ ফুট করা হয়েছে। স্টেজ করা হয়েছে ৮০ ফুট বাই ৪০ ফুট। মঞ্চের পেছনে ৭৬ ফুট বাই ১০ ফুট ব্যানার টাঙানো হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও শৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাসেবক উপ-পর্ষদ’র আহবায়ক সুখেন মজুমদার জানান, প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশকে সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর করে তুলতে ৪শ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবক কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটির সদস্যরা সমাবেশের প্রবেশমুখ, সমাবেশ স্থল ও সমাবেশে আগতদের সহযোগিতা করবেন।

 

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে যশোর সদর আসনের এমপি কাজী নাবিল আহমেদ’র নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগ ও যুব মহিলা লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের ৫ শতাধিক নেতাকর্মী শহরে প্রচার মিছিল বের করে। বকুলতলা বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল থেকে মিছিলটি বের হয়ে মনিহার চত্বর এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান মিন্টু, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক সুখেন মজুমদার, কামাল আহমেদ, যুবলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন-উদ্দিন মিঠু, জেলা মহিলা লীগের সভাপতি লাইজ্জুমান ও যুব মহিলা লীগের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনিন সোনালী প্রমুখ। মিছিল শেষে ট্রাফিক আইল্যান্ডে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় দলে দলে যোগ দেয়ার আহবান জানান।
এরআগে দুপুর ১২টায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক কাজী বর্ণ উত্তমের বাসভবন থেকে একটি সাইকেল র‌্যালি বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। পরে একই স্থানে এসে র‌্যালি শেষ হয়। কাজী বর্ণ উত্তম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশা জেগেছে।

মহাসমাবেশের সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীরমুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন জানান, জাতির জনকের সুযোগ্য উত্তরসুরী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য শুনতে মুখিয়ে আছেন যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। সভা-সমাবেশ ও প্রচার মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ উপলক্ষে গঠিত ৮ উপ-পর্ষদের নেতৃবৃন্দ। ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি ছিল। তারজন্য বৃহত্তর যশোর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিশেষ বর্ধিত সভা হয়েছে উল্লেখ করে শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, শেষ মুহূর্তে ধারণা করছি, লোকসমাগম ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। জনসমুদ্র হবে যশোর। বাড়তি লোকসমাগমের কারণে বাড়তি প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রধানন্ত্রীর সমাবেশ সম্পন্ন করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে জেলা আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা বলেন, যশোরে প্রধানমন্ত্রীর মহাসমাবেশ প্রমাণ করে দেবে আওয়ামী লীগ নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর রয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি ও জামায়াত জ¦ালাও পোড়াও, বোমা নিক্ষেপ, খুন-হত্যা ও আগুন সন্ত্রাসের দল। দেশবাসী তাদের প্রত্যাখান করেছে। তারা নৈরাজ্য সৃষ্টির পায়তারা করছে। জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে আওয়ামী নেতাকর্মীরা। প্রসঙ্গ টেনে শহিদুল ইসলাম মিলন আরও বলেন, উৎসবের নগরী যশোরের প্রভাব পড়েছে গোটা দক্ষিণাঞ্চলে। সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রাণচাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। টানা ৫ বছর পর প্রধানমন্ত্রী যশোরে আসছেন। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর যশোর ঈদগাহ মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, একদম শীর্ষ নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা একযোগ সভা, সমাবেশ ও প্রচার মিছিল করছেন। সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে ঘরে ঘরে বিতরণ করা হচ্ছে লিফলেট। যেকারণে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা মহাসমাবেশে রুপ নেয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই সম্ভাবনা ঘিরে প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয়ভাবে বাড়তি প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

যশোর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ পারভেজ জানান, প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ উপলক্ষে স্টেডিয়াম ও আব্দুর রাজ্জাক কলেজ মাঠে ৮০টি টয়লেট-বাথরুম স্থাপন করা হয়েছে। সুপেয় পানির জন্য বসানো হয়েছে ৪টি সাবমার্সিবল ও ৪টি টিউবওয়েল। ২০টি ট্যাঙ্কি থেকে পানি যাবে ২৬০টি ট্যাপকলে। পানি খেতে সরবরাহ করা হয়েছে ২৬০ পিস মগ (গ্লাস)। গ্যালারির চারপাশে জনসচেতনামূলক লেখা সম্বলিত ৮০ পিচ প্যানা টানানো হয়েছে। এসব মাঠের সৌন্দর্য বর্ধনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর বিমানবন্দর থেকে শুরু করে স্টেডিয়াম পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের দেয়াল নানা রঙে রাঙানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের কাজ আগেই শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে বিভিন্ন দেয়ালে প্রধানমন্ত্রীর বাণী লেখার কাজ করতে দেখা গেছে।

যশোর ট্রাফিক বিভাগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গাড়ি পার্কিয়ের নির্ধারিত স্থানগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। কোন স্পটে কোন ধরণের গাড়ি পার্কিং করা যাবে তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে ভাষণ দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ২৪ নভেম্বর সেই মাঠে ভাষণ দেবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

খুলনা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :