নিহতের সংখ্যা বিভ্রান্তি কাটেনি:রাতে লাশ হস্তান্তরে ক্ষুব্ধ স্বজনরা

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:29 PM, 29 March 2019

ঢাকা অফিস: রাতের বেলাতে তড়িঘড়ি করে লাশ হস্তান্তরে ক্ষুব্ধ স্বজনরা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লাশগুলো যখন হস্তান্তর করা হচ্ছিল ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল মর্গ থেকে সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে তেড়ে আসেন অনেকে।তাদের অভিযোগ ছবি তুলে, ভিডিও করে কোনো লাভ নেই। উত্তেজিত এক তরুন বললেন  পারলে কারণ খুঁজে বের করুন, রাতের আঁধারে এত্তগুলো লাশ কেন হস্তান্তর করা হচ্ছে।

দিকে নিহতের সংখ্যা নিয়ে যে বিভ্রান্তির তার সুরাহা তখনও হয়নি। পুলিশ ২৫ জন নিহতের তথ্য দিলেও ফায়ার সার্ভিসের দাবি আগুনে পুড়ে মারা গেছেন ১৯ জন। সরকারের দুুটি দায়িত্বশীল সংস্থার ভিন্ন তথ্য প্রদানের নেপথ্য রহস্য কি তার নেই কোন সদুত্তোর। পড়ুন>>>বনানীর আগুনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫: হাসপাতালে ৭৫

বৃহস্পতিবার দিনভর স্বজন হারানোদের দৌঁড়াদৌড়ি আর শোকে কাতর ছিলেন নিহতের আত্নীয়-স্বজনরা। এ অবস্থায় তাদের কাছে জানার প্রয়োজন ছিল রাতে তারা লাশ নিতে প্রস্তুত কি-না কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তার প্রয়োজন মনে করেনি। পড়ুন>>>বনানীতে আগুন লাগা এফআর টাওয়ার নির্মাণে নকশা মানা হয়নি-রাজউক চেয়ারম্যান

আজ শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টায় এমনই এক দৃশ্যের অবতারণা হয় বনানীর এফআর টাওয়ারের ৮ তলায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত আহমেদ জাফর (৫৯) এর মরদেহ হস্তান্তরের সময়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদিয়া হাউসিংয়ের বাসিন্দা আহমেদ জাফর সোনালী ব্যাংকের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। মাত্র তিনমাস আগে চাকরি থেকে অবসরগ্রহণ করে বনানীর এফআর টাওয়ারের আসিফ ইন্টারপ্রাইজের ট্রান্সপোর্ট বিভাগের প্রধান পদে যোগদান করেন।

গতকাল দুপুরে আগুনে দগ্ধ হয়ে তার করুণ মৃত্যু হয়। এহেন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। তাছাড়া রাতের আন্ধকারে তড়িঘড়ি করে লাশ হস্তান্তরের কারণে তারা ছিলেন ক্ষিপ্ত।

রাতের লাশ হস্তান্তরের খবর জানতে পারেননি অনেক মিডিয়াকর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তারাও। আজ ভোরে গিয়ে তারা জানতে পারেন লাশ রাতেই স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সিআইডির একজন পুলিশ কর্মকর্তা মর্গের সামনে এসে কয়টি লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে জানতে বনানী থানার পুলিশকে খুঁজছেন। কিছুক্ষণ পর একজনকে খুঁজে পেলে তিনি সঠিক তথ্য জানেন না জানিয়ে বলেন, ‘স্যার আমি একটু আগে বদলি ডিউটিতে এসেছি। খবর নিয়ে আপনাকে দ্রুত জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে বনানীর ১৭ নম্বর রোডের ওই ভবনটির ৯ তলায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে এ আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে এক শ্রীলঙ্কান নাগরিকসহ অন্তত ১৯ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে এতে ৭০ জন আহত হয়েছেন।

তবে নিহতের সংখ্যা ১৯ না ২৫ তা নিশ্চিত করতে পারেনি কোন সূত্র। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ভিন্ন তথ্য রহস্যের সৃষ্টি করেছে।

ঢাকা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :