নির্বাচন কমিশন গঠনে হচ্ছে নতুন আইন

ঢাকা অফিসঢাকা অফিস
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:39 PM, 29 December 2021
ফাইল ছবি

নির্বাচন কমিশন গঠনে নতুন একটি আইন করার আভাস পাওয়া গেছে। মন্ত্রিপরিষদ সূত্র থেকে এই আভাস মিলেছে। যদিও ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ চলমান রয়েছে। এরইমধ্যে সংলাপ শেষ করে জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি। যে কয়টি রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ করেছেন তারা সবাই নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে আইনে জোর দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে আইন করা না গেলে একটি অর্ডিন্যান্স করে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো।

নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয় আইন প্রণয়ন করা উচিৎ বলেও রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, এই সময়ের মধ্যে আইন করা সম্ভব না হলেও অর্ডিন্যান্স করা সম্ভব- এ ধরনের আভাস আছে।

এদিকে আইনমন্ত্রী স্পষ্টভাবে সংসদে এবং সংসদের বাইরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একাধিকবার জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে আইন করা সম্ভব নয়।

সর্বশেষ বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) ক্রাইম রিপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ইজিএমে আইনমন্ত্রী বলেছেন, আইন করা সম্ভব নয়।

এ ব্যপারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আইন শাখার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হাতে যে সময় রয়েছে, সে সময়ের মধ্যে আইন করা সম্ভব। তবে আইনটি আইন মন্ত্রণালয় থেকে করতে হবে।

তিনি বলেন, আইনের কাঠামো প্রস্তুত রয়েছে। শুধুমাত্র প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিষয়টির ক্ষেত্রে পদ্ধতিটি ঠিক করতে হবে।

আইন করার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কিছু মন্তব্য না করলেও কৌশলে তিনি বলেন, আইন করার ইঙ্গিত পেলে আমরা প্রস্তুত। তখন আইনটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় করে তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবে। একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করতে ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লাগতে পারে।

আইন মন্ত্রণালয় থেকে এই আইন সংক্রান্ত কোনোকিছুই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পায়নি বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আইন শাখার ওই কর্মকর্তা।

এদিকে আইন সচিব গোলাম সারোয়ার বলেন, এটি জুডিশিয়ারি ফাংশন। এটি আমাদের কাজ নয়। এটি কেবিনেট থেকে করা হয়।

ইসি গঠনে নতুন আইন প্রণয়ন বিষয়ে সচিব বলেন, এটি আমাদের কর্মপরিধির মধ্যে পড়ে না।

এর আগে ২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত সরকারের আমলে ড. শামসুল হুদা কমিশনের পক্ষ থেকে ইসি গঠনে সংবিধান অনুযায়ী একটি আইন প্রণয়নের জন্য খসড়া প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে সেটা সরকারের কাছে পৌঁছানো হয়েছিল।

সর্বশেষ নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ১৮ নভেম্বর আইনমন্ত্রীর হাতে ইসি নিয়োগে আইনের প্রস্তাবিত খসড়া তুলে ধরা হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এ প্রস্তাবনা আইনমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ইসি গঠনে আইন থাকবে। ওই আইনের অধীনে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্য চার কমিশনারকে নিয়োগ করবেন। কিন্তু ৪৯ বছরে আইন না হওয়ায় গত দু’বার সার্চ কমিটির মাধ্যমে কাজী রকিব উদ্দীন এবং কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন ইসি গঠন করা হয়। এই ইসির মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :