নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হামলায় প্রাণ গেল ৪০ জনের

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:56 PM, 15 March 2019

১৭ মিনিট ধরে লাইভ স্ট্রিম দেখিয়েছে বন্দুকধারী জানোয়ার
এবিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হামলার ভয়াবহ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৭ মিনিট ধরে লাইভ স্ট্রিম (সরাসরি সম্প্রচার) করেছে বন্দুকধারী। সেখানে নিজের পরিচয়ও দিয়েছে সে। জানিয়েছে, তার নাম ব্রেন্টন টারান্ট। বয়স ২৮ বছর। অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ সে। এরইমধ্যে বেন্ট্রন টারান্ট নামে একটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউ জিল্যান্ড হেরাল্ডের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মার্চ) দুপুরে নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলা হয়। শহরের হাগলি পার্কমুখী সড়ক ডিনস এভিনিউতে আল নুর মসজিদ এবং লিনউডের আরেকটি মসজিদের কাছ থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়। হামলায় ৪০ জনের প্রাণহানি হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। এরইমধ্যে এ ঘটনায় চার সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিউ জিল্যান্ড হেরাল্ড জানায়, ভয়াবহ হামলার সে দৃশ্য লাইভ স্ট্রিম করে বন্দুকধারী। পরে তা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্দুকধারী বড় একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রাস্তায় হাঁটছে, এরপর সে ভবনে প্রবেশ করে এবং গুলি ছুড়তে থাকে। ভয়াবহ ওই ভিডিওটি না ছড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নিউ জিল্যান্ড পুলিশ।

পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ফুটেজের ব্যাপারে তিনি অবগত আছেন। এ ফুটেজ সেখান থেকে সরিয়ে ফেলতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে পুলিশ। মাইক বুশ বলেন, ‘এটি (হামলার ফুটেজ) পাবলিক ডোমেইনে থাকা ঠিক হবে না’।

আইসিটি প্রোভাইডার স্পার্ক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমন মৌটার জানান, ওই ভয়াবহ ফুটেজ বিতরণের চেষ্টাকারী ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘ক্রাইস্টচার্চে হামলাকারীদের ছড়ানো সে বিদ্বেষমূলক ফুটেজ বিতরণের চেষ্টাকারী ওয়েবসাইট বন্ধে স্পার্ক-এর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমাদের ধারণা, এতে আমাদের গ্রাহকদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাময়িক অসুবিধা হবে।’

স্পার্ক-এর মুখপাত্র অ্যান্ড্রু পিরি বলেছেন, প্রযুক্তিকর্মীরা ওই ফুটেজ বিতরণকারী তিনটি প্রাথমিক সাইট শনাক্ত করেছেন। এ ধরনের সাইটগুলো বন্ধে ইন্টারনেট প্রোভাইডররাও একযোগে কাজ করছেন।

সূত্র: নিউ জিল্যান্ড হেরাল্ডের প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক

আপনার মতামত লিখুন :