নরেন্দ্র মোদির আগমনকে ঘিরে শ্যামনগরে সাজ সাজ রব

18

>>সাতক্ষীরাসহ শ্যামনগরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমন উপলক্ষে নতুন রূপে সাজতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার সুন্দরবন কোলঘেঁষা উপজেলা শ্যামনগর। চলছে সাজ সাজ রব। ইতোমধ্যে মোদির আগমনের খবরে শ্যামনগরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে মোদিকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী ২৭ মার্চ শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুরে যশোরেশ্বরী কালীমন্দির পরিদর্শন করবেন নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি মাত্র ২০ মিনিট অবস্থান করবেন।
জানাযায়, পরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সফরসূচিতে জানানো হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে সফর করবেন। পরদিন ২৭ মার্চ তিনি বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার যোগে সাতক্ষীরা ও গোপালগঞ্জ সফর করবেন। ওইদিন সকাল ৯ টা ৫০ মিনিটে তিনি শ্যামনগরের ঈশ্বরিপুরে অবস্থিত যশোরোশ্বরী দেবি মন্দির পরিদর্শন শেষে ১০ টা ১০ মিনিটে সাতক্ষীরা ত্যাগ করবেন। ১০ টা ৫০ মিনিটে গোপালগঞ্জে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধ পরিদর্শন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ ও চারাগাছ রোপণ করবেন। এরপর ১১ টা ৩৫ মিনিটে তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানির ওড়াকান্দি মন্দির পরিদর্শন করবেন।
ইতিমধ্যে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারসহ জেলার বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও প্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বয় সভাসহ ঈশ্বরিপুর কালি মন্দির পরিদর্শন করেছেন।
ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও মোদির নিরাপত্তা দলের সদস্যরা সাতক্ষীরায় সরেজমিন ঘুরে দেখেছেন। মন্দিরের অবকাঠামো, যাতায়াত পথ, নিরাপত্তাসহ সবকিছু রেকি করে গেছেন তারা। বর্তমানে মন্দির এলাকায় নিরাপত্তার ব্যাপারে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে যশোরেশ্বরী কালীমন্দির ও এর আশপাশ এলাকা বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারিতে আনা হয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে অবকাঠামো উন্নয়নসহ তিনটি হেলিপ্যাড ও মন্দির সংলগ্ন রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গতঃ শ্যামনগরে যশোরেশ্বরী কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে ইতিহাস থেকে বিভিন্ন রকম তথ্য জানা যায়। ‘যশোহর খুলনার ইতিহাস’ প্রণেতা সতীশ চন্দ্র মিত্র এই মন্দির স্থাপনা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করেছেন। তাতে বলা হয়, ১৫৬০-৮০ সাল পর্যন্ত রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বকালে তিনি স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে ঈশ্বরীপুর এলাকায় একটি মন্দির নির্মাণ করেন। মন্দিরটি নির্মাণের পর সেটি বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে মন্দিরটি জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে ওঠে। সে সময় শ্যামনগরের ধুমঘাট ছিল বাংলার ১২ ভূঁইয়ার এক ভূঁইয়া রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানী। রাজা প্রতাপাদিত্য এ সময় দেখতে পান ওই জঙ্গল থেকে এক আলোকরশ্মি বেরিয়ে আসছে। তিনি তখন মন্দিরটি খোলার নির্দেশ দেন। এরই মধ্যে মন্দিরটি খুলেই সেখানে দেখা মেলে চন্ডভৈরবের আবক্ষ শিলামূর্তি। তখন থেকে সেখানে পূজা-অর্চনা শুরু হয়। ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী আরও জানা যায়, দক্ষ রাজার কনিষ্ঠ কন্যার নাম ছিল সতীবালা। তিনি জন্ম থেকে মহাদেবের পূজারিণী ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি স্বেচ্ছায় মহাদেবকে বিবাহ করেন। এতে দক্ষ রাজার ঘোর আপত্তি ছিল। এক অনুষ্ঠানে দক্ষ রাজার উপস্থিতিতে মহাদেব আসেন। কিন্তু মহাদেব দক্ষ রাজাকে তার শ্বশুর বলে পরিচয় দেননি। এতে তিনি চরম অপমানবোধ করেন। পরে শুরু করেন দক্ষযজ্ঞ। এতে সতীবালা ও মহাদেব নিমন্ত্রিত ছিলেন না। এতে অপমান বোধ করেন সতীবালা। কিছুক্ষণ পরেই সতীবালা দেহত্যাগ করেন।
এ খবর পেয়ে কৈলাস থেকে দ্রুতবেগে নেমে আসেন মহাদেব। তিনি দক্ষ রাজার মুন্ডু কর্তন করে বলির জন্য নিয়ে আসা ছাগলের মুন্ডু কেটে সেখানে বসিয়ে দিয়ে দক্ষযজ্ঞ লন্ডভন্ড করে দেন। পরে তিনি মৃত স্ত্রী সতীবালাকে কাঁধে নিয়ে কৈলাস পাহাড়ে চলে গিয়ে ক্ষোভে ও দুঃখে ব্রহ্মান্ড ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেন। এ খবর পেয়ে ব্রহ্ম ও নারায়ণ সিদ্ধান্ত নিলেন মহাদেবকে ঠান্ডা করতে হলে তার কাছ থেকে সতীবালার মৃতদেহ সরিয়ে নিতে হবে। সে অনুযায়ী ত্রিশূল দিয়ে সতীবালাকে ৫১ খন্ড করে ত্রিশূলে ঘোরানো হয়। এর এক খন্ড এসে পড়ে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে। সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হয় যশোরেশ্বরী কালীমন্দির। অপর খন্ডগুলো পশ্চিমবঙ্গের কালীঘাট, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল।