ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াশ’:সাতক্ষীরায় আগাম প্রস্তুতি

35

শনিবার (২২ মে) বিকাল নাগাদ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে পারে একটি লঘুচাপ। যা পরবর্তীতে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ, এরপর ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াশ’ এ রূপ নিতে পারে। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড় আগামী ২৬ মে নাগাদ ভারতের উড়িষ্যার উপকূল এবং বাংলাদেশের সাতক্ষীরা ও খুলনা উপকূল দিয়ে অতিক্রম করতে পারে, এমনটাই পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

সর্বশেষ পূর্বাভাস মতে, মধ্যম মানের এ ঘূর্ণিঝড়টি প্রবেশের সময় বাতাসের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার। তবে গতিবেগ কম হলেও ২৬ মে ভরা পূর্ণিমার কারণে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসসহ বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ৮ থেকে ১২ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস বয়ে যেতে পারে উপকূল দিয়ে।

বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, ‘শনিবার নাগাদ বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। এরপর এটি যদি শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তাহলে আগামী ২৬ মে বাংলাদেশ ও ভারতের উড়িষ্যার উপকূলে আঘাত হানার শঙ্কা প্রকাশ করছি আমরা।’

শুক্রবার (২১ মে) আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলামের সই করা আবহাওয়া অধিদফতরের এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তর আন্দামান সাগর ও পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরবর্তীতে এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২৬ মে নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা এবং বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে পৌঁছাতে পারে।’

আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এই মাসে আবহাওয়ার যে অবস্থা, তাতে এই ধরনের লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। এরমধ্যে দুই-একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়া স্বাভাবিক। এছাড়া আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও আমরা এই মাসে ঘূর্ণিঝড় হতে পারে বলে জানিয়েছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘এই সময় গরম অনেক বেশি পড়ে, আবার এই গরমের কারণে আকাশে মেঘের পরিমাণও বেশি হয়। তাতে ঝড়বৃষ্টি হতে থাকে। লঘুচাপ কখনও কখনও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়।’

বিশ্বের বিভিন্ন আবহাওয়ার পূর্বাভাস কেন্দ্রগুলোও জানায়, ২৫ মে মধ্যরাত থেকে ২৬ মে সন্ধ্যার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াশ’ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। আম্পান যেদিক দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করেছিল, সেই সাতক্ষীরা ও খুলনার ওপর দিয়ে সম্ভাব্য আঘাতটা হানতে পারে এ ঘূর্ণিঝড়।

প্রসঙ্গত, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক কমিটি ঝড়ের নামকরণ করে থাকে। যেমন- ভারত মহাসাগরের ঝড়গুলোর নামকরণ করে এই সংস্থার আটটি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে— বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড এবং ওমান, যাদের প্যানেলকে বলা হয় ডব্লিউএমও বা ইএসসিএপি। এবারের ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াশ’ নামকরণ করেছে ওমান।

সাতক্ষীরায় জরুরী সভা
ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াযশ’ মোকাবিলায় সাতক্ষীরা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২১ মে) বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম জুম মিটিংয়ে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।

সভায় আসন্ন ঘূর্ণিঝড় ইয়াশ’ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং দুর্যোগের আগে, দুর্যোগের সময় ও দুর্যোগ পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হয়।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএমএস মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আশঙ্কা করা হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়টি সাতক্ষীরা, খুলনা উপকূলে মে মাসের শেষ সপ্তাহে আঘাত হানতে পারে। সে ধরনের পূর্বাভাস দেখে আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি সভা করেছি। এটি আমাদের আগাম প্রস্তুতি। আমরা প্রস্তুত আছি কি-না সেটি বোঝার জন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাতক্ষীরা জেলায় ১৪৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র আছে। এছাড়া আমাদের ১৫শ স্কুল-কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১৮৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত আছে। দুই কোটি ১৫ লাখ টাকার নগদ অর্থ সহায়তার জন্য রয়েছে।’

‘পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ওয়াটার ট্যাংক রয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত আছে। জেলা প্রশাসন সবসময় সজাগ থেকে বরাবরের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম হবে’—যোগ করেন সাতক্ষীরা ডিসি।

এসময় সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত, পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি, এনএসআই সাতক্ষীরার উপপরিচালক জাকির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সজিব খান, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের, পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।