ধর্ষণের বিচার চেয়ে ধর্ষিতাকে সঙ্গে নিয়ে ফেইসবুক লাইভে আ.লীগ নেত্রী


  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:41 AM, 24 March 2020

মিন্টু দত্ত, চট্টগ্রাম ব্যুরো: ধর্ষণের শিকার হওয়া এক শিশুকে নিয়ে ফেসবুক লাইভ করেছেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সারোয়ার কাবেরী।

সোমবার দুপুরে কক্সবাজারে তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভে এসে এই ধর্ষণের বিচার দাবি করেন। লাইভে ধর্ষণের শিকার ১০ বছর বয়সী শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের দেখানো হয়। যদিও বিষয়টি তথ্যপ্রযুক্তি আইনে অপরাধ।

এবিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেত্রী নাজনীন সারোয়ার কাবেরী গণমাধ্যমকে জানান, গত ৮ মার্চ নারী দিবসে এই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়৷ ঘটনার পর দুই সপ্তাহ সময় অতিবাহিত হলেও ধর্ষক গ্রেপ্তার হয়নি। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে ওই শিশুর পরিচয় জানাজানি হয়ে যায়। এরপর শিশুটি ও তার পরিবারের উপর নেমে আসে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।

স্কুল ও বিভিন্ন স্থানে ধর্ষিতা মেয়েটি হেনস্থার শিকার হচ্ছে জানিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানান, ‘ঘটনার পর মেয়েটা যখন স্কুলে যায়, তখন মনে হচ্ছে একটা পশু যাচ্ছে এভাবে স্কুলের চার পাঁচশ বাচ্চা তার পিছু নেয়। প্রতিবেশীরা তার পিছু নেয়। তাকে দেখতে ভিড় করে।’

মানবিকভাবে মাতৃস্নেহে মেয়েটির ও তার পরিবারের পাশে দাড়াতে এবং ঘটনার বিচারের দাবিতে তিনি এই লাইভ করেছেন বলে জানান।

ধর্ষিতার পরিচয় প্রকাশ দেশের আইনে অপরাধ। এবিষয়ে জানতে চাইলে কাবেরী বলেন, ‘আমি এ আইন মানি না। কিসের আইন? মানুষের জন্যই আইন। আইন যদি ঠিক থাকত প্রতিটি হত্যার বিচার হতো। আইন ঠিক থাকলে ধর্ষণ হতো না।’ ধর্ষকদের কেন এখনো ধরা হচ্ছে না? প্রশাসনের দৃষ্টিআর্কষণ করে তিনি বক্তব্য রাখেন, ধর্ষিতাকে কেন গৃহবন্দি থাকতে হবে?

এর আগে গত ১৮ মার্চ কক্সবাজারে অপর একটি ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর কিশোরীকে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্রে করে একই ধরনের ফেসবুক লাইভে আসেন এই আওয়ামী লীগ নেত্রী৷ সে লাইভেও ধর্ষণের শিকার হওয়া কিশোরীর বাবা-মাকে দেখানো হয়।

যদি ও সামাজিক ভাবে ধর্ষিতা ও তার পরিবারের পাশে এমন ভাবে দাড়াতে কোন নেতা নেত্রীকে দেখা যায় নি নিকট অতীতে। এটা এক প্রকার শুভ লক্ষণ, অপরাধীদের প্রতি সোচ্চার হয়ে ধর্ষিতা ও তার পরিবারের প্রতি এমন মাতৃস্নেহ আজ কাল বিরল।

সুশীল সমাজ মনে করে প্রশাসনের তরফ থেকে ধর্ষিতা ও তার পরিবারের প্রতি আইনি পদক্ষেপ তথা সুরক্ষার ব্যবস্থা করা গেলে এবং অপরাধীদের শাস্তি নিঃশ্চিত করা গেলে সামাজিকভাবে হওয়া এই বৈষম্যের বিলোপন হতে বাধ্য।

আপনার মতামত লিখুন :