দেশে পৌঁচেছে মডার্না ও সিনোর্ফামের ৪৫ লাখ ডোজ টিকা

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  09:09 PM, 03 July 2021

মডার্না ও সিনোর্ফামের মোট ৪৫ লাখ ডোজ টিকা গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা ২২ মিনিট থেকে আজ সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের মধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে। এর মধ্যে মডার্নার টিকা ২৫ লাখ এবং সিনোর্ফামের ২০ লাখ।

কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় বিশেষ ফ্লাইটে গতকাল রাত ১১টা ২২ মিনিটে মর্ডানার টিকার প্রথম চালানে সাড়ে ১২ লাখ এবং আজ সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে আরও সাড়ে ১২ লাখ ডোজ টিকা এসে পৌঁছেছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। আরও খবর>>দেশে প্রতিদিন মৃত্যু একশ’র ওপরে:২৪ ঘন্টায় ১৩৪ জনের প্রাণহানী

বিশ্বব্যাপী গ্যাভি-দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের ব্যবস্থাপনায় কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় ২০২১ সালের মধ্যে ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ কোভিড-১৯ টিকা পাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।

এরআগে এই সুবিধার আওতায় একটি চালানে ফাইজারের এক লাখ ছয় হাজার ডোজ টিকা এসেছে দেশে।

গতকাল রাত সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে চীনের সিনোফার্ম থেকে কেনা টিকার প্রথম চালানের ১০ লাখ এবং ভোর সাড়ে ৫টায় বিশেষ দ্বিতীয় ফ্লাইটে আরও ১০ লাখ ডোজ টিকা এসেছে।

চীনের বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্ট কোং লিমিটেডের কাছ থেকে এই টিকা কিনেছে সরকার। সিনোফার্মের কাছ থেকে মোট এক কোটি ৫০ লাখ ডোজ টিকা কেনার কথা রয়েছে।

গত ২৭ জুন দেশে অষ্টম টিকা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার করোনাভাইরাসের টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এর আগে, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ড, রাশিয়ার স্পুতনিক, চীনের সিনোফার্ম, বেলজিয়ামের ফাইজার, চীনের সিনোভ্যাক, যুক্তরাষ্ট্রের জনসন ও সুইডেনের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া টিকাদান কর্মসূচিটি ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে স্থগিত করা হয়।

ভারতে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের হার হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যাওয়ায় সেরাম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার ডোজগুলো পাঠাতে পারেনি।

চুক্তি অনুযায়ী, ছয় চালানে জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে বাংলাদেশের তিন কোটি ডোজ টিকা পাওয়ার কথা ছিল।

সেরাম চুক্তি অনুযায়ী জানুয়ারিতে প্রথম ৫০ লাখ ডোজ পাঠিয়েছে। কিন্তু, এরপর ফেব্রুয়ারিতে তারা মাত্র ২০ লাখ ডোজ টিকা পাঠায়। এরপর থেকে আর কোনো চালান আসেনি বাংলাদেশে।

এই ৭০ লাখ ডোজ ছাড়াও ভারত সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে ৩৩ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ।

ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় বাংলাদেশ গত ২৬ এপ্রিল প্রথম ডোজের কোভিড টিকা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ভ্যাকসিনের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়াটিকেও ৫ মে থেকে স্থগিত করে দেওয়া হয়।

চীন সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ১১ লাখ ডোজ সিনোফার্ম ভ্যাকসিনের মাধ্যমে ১৯ জুন থেকে আবারও সীমিত আকারে সরকার প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া শুরু করেছে।

সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সরকারের হাতে এসেছে এক কোটি ৬০ লাখ ছয় হাজার ডোজ টিকা। এর মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার এক কোটি তিন লাখ ডোজ, সিনোফার্মের ৩১ লাখ ডোজ, মডার্নার ২৫ লাখ ডোজ এবং ফাইজারের এক লাখ ছয় হাজার ডোজ টিকা রয়েছে।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টিকা নিতে এখন পর্যন্ত মোট ৭২ লাখ ৭০ হাজার ৯৩৯ জন নিবন্ধন করেছেন। তাদেরকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার এক কোটি এক লাখ নয় হাজার ৯২৮ ডোজ, সিনোফার্মের ৬৬ হাজার ২৩৮ ডোজ এবং ফাইজারের ৯২৪ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিভাগ

আপনার মতামত লিখুন :