দেবী বরণে জোর প্রস্ততি

এবিসি বাংলা ডেস্কএবিসি বাংলা ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  12:20 AM, 10 October 2021

হিন্দু ধর্মালম্বী সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব সমাসন্ন। এরই মধে| দেবীকে বরণের প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। মণ্ডপে মণ্ডপে এখন চলছে শুধু শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা। ১১ অক্টোবর ষষ্ঠী পুজার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে। এবার দেবী আসবেন ঘোড়ায় চড়ে এবং বিদায় নেবেন দোলায় চড়ে। করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথায় রেখেই চলছে মণ্ডপের কাজ। রাজধানীতে এবার ২৩৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে দুর্গাপূজাকে ঘিরে দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী একের পর এক মতবিনিময় সভা করে চলেছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করতে সরকারের রয়েছে কঠোর নির্দেশনা।
সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে কোথাও কোন রকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করা হলো কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে। এই পূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। হিন্দু পুরাণ মতে, দুর্গাপূজার সঠিক সময় বসন্তকাল। কিন্তু বিপাকে পড়ে রামচন্দ্র, রাজা সুরথ ও বৈশ্য সমাধি সে পর্যন্ত অপেক্ষা না করে, শরতেই দেবীকে অসময়ে জাগিয়ে পূজা করেন। সেই থেকে অকালবোধন হওয়া সত্ত্বেও শরৎকালেই দুর্গাপূজার প্রচলন হয়ে যায়।
সনাতন ধর্ম মতে, যা কিছু দুঃখ-কষ্টের বিষয়, যেমন- বাধাবিঘ্ন, ভয়, দুঃখ-শোক, জ্বালা-যন্ত্রণা এসব থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। শাস্ত্রকাররা দুর্গা নামের অর্থ করেছেন ‘খের দ্বারা যাকে লাভ করা যায় তিনিই দুর্গা’। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তাদের কষ্ট দূর করেন। মহালয়াতেই দেবী আগমনের ঘণ্টা বাজে, আর বিজয়া দশমি দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন। এই দিনটি শেষ হয় মহা-আরতির মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে দুর্গা পূজার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এ বছর সারাদেশে ৩২ হাজার ১১৮টি মণ্ডপে হবে দুর্গা পূজা। গত বছরের চেয়ে এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৯০৫টি।
ঢাকা মহানগরে এ বছর পূজা হবে ২৩৮টি মণ্ডপে, যা গত বছরের চেয়ে ৪টি বেশি। ১১ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে দেবীর আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ১৫ অক্টোবর দশমি তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে উৎসব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে সাত্ত্বিক পূজায় সীমাবদ্ধ রাখতে ভক্তদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। গত ৩ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠকের পর ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে পূজা উদযাপন পরিষদ। নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে— মণ্ডপে আগত পূজারি, দর্শনার্থী ও ভক্তদের সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে। নারী-পুরুষের জন্য পৃথক যাতায়াত ব্যবস্থা রাখতে হবে। পূজা মণ্ডপে জনসমাগম পরিহার করতে মেলা, আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আরতি প্রতিযোগিতা করা যাবে না। প্রতিমা বিসর্জনের সময় শোভাযাত্রা পরিহার করতে হবে। এছাড়া দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা মন্দিরে বা মণ্ডপে এলে সংশ্লিষ্ট থানাকে আগেই অবহিত করতে হবে। রাজধানীর মণ্ডপগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, পূজামণ্ডপের কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে সাজসজ্জা, সাউন্ড চেক এবং লাইটিংয়ের কাজ।
রবিবার (১০ অক্টোবর) মণ্ডপগুলো উদ্বোধন করা হবে এবং তারপর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। মণ্ডপগুলোতে দেখা যায়, প্রবেশের এবং বের হওয়ার দু’টি আলাদা রাস্তা করা হয়েছে। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য সীমিত আকারে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে, কিন্তু তা সংখ্যায় অনেক কম। এছাড়া পূজা মণ্ডপের পরিধি এবার কমিয়ে আনা হয়েছে। অর্থাৎ আকার ছোট হয়েছে পূজা মণ্ডপের। রাজধানীর তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, গুলশান, বনানী, বসুন্ধরা এলাকার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি পূজা উদযাপিত হয় পুরান ঢাকায়। পুরান ঢাকার শাখারিবাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, শ্যামবাজার, প্যারীদাস রোড, কলতাবাজার, মুরগিটোলা, মদনমোহন দাস লেন, বাংলাবাজার গোয়ালনগর, জমিদারবাড়ী, গেন্ডারিয়া, ডালপট্টি এলাকার অলিগলিতে চলছে পূজার আয়োজন। ছোট-বড় বিভিন্ন মণ্ডপে শুরু চলছে মঞ্চ, প্যান্ডেল, তোরণ ও প্রতিমা নির্মাণের কাজ। . রাজধানীর খামারবাড়ি এলাকার সনাতন সমাজ কল্যাণ সংঘের উদ্যোগে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের পাশের জায়গায় করা হয়েছে পূজা মণ্ডপ। রবিবার বিকালে এই পূজা মণ্ডপের উদ্বোধন করবেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী এবং এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সারাদেশের মতো যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের মণ্ডপগুলোতে শেষ মুহৃর্তের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনও এই উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে নানামুখি তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

আপনার মতামত লিখুন :