তেঁতুলতলা মাঠ যেভাবে হয় পুলিশের

বিশিষ্ট ৩৭ নাগরিক বিবৃতিতে দাবি করলেন মাঠ মাঠই থাক

ঢাকা অফিসঢাকা অফিস
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:22 PM, 26 April 2022

তেঁতুলতলা মাঠে স্থায়ীভাবে কলাবাগান থানা ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। সব ধরনের নিয়ম মেনেই ধানমন্ডি মৌজার শূন্য দশমিক ২০ একর (২০ শতাংশ) ওই জমি থানার জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়।

 

ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এও বলা হয়, জনস্বার্থে সরকার ডিএমপির কলাবাগান থানা ভবন নির্মাণের জন্য দেশের প্রচলিত সকল আইন কানুন মেনে ওই জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে। এক্ষেত্রে ডিএমপি কোনো ব্যক্তির বা সংস্থার জমিতে বেআইনিভাবে থানা ভবন নির্মাণ করছে না। বিকল্প খেলার মাঠের ব্যবস্থার বিষয়টি ঢাকা মহানগর পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত নয়। প্রস্তাবিত থানার জায়গা তেঁতুলতলা মাঠ থেকে কিছু দূরে কলাবাগান মাঠ রয়েছে। সেখানে বাচ্চাদের খেলাধূলাসহ সামাজিক অনুষ্ঠান করার সুযোগ রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনস্বার্থে কলাবাগান থানার জন্য ধানমন্ডি মৌজার শূন্য দশমিক ২০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭ এর সকল বিধি-বিধান অনুসরণ করা হয়েছে। কলাবাগান থানার জন্য অধিগ্রহণ করা ওই জমি জরিপ অনুযায়ী, সরকারি সম্পত্তি ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন।

যে প্রক্রিয়ায় ওই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ জানায়, কলাবাগান থানার জন্য ওই জমি অধিগ্রহণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন নেওয়া হয়, সরকারি প্রয়োজনে ও জনস্বার্থে রাজউকের কোনো আপত্তি নেই মর্মে ছাড়পত্র পাওয়া যায়, জায়গাটির প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহার আরবান রেসিডেন্সিয়াল জোন হিসেবে চিহ্নিত আছে মর্মে নগর উন্নয়নের ছাড়পত্র পাওয়া যায়; সরকারের প্রচলিত আইন ও নীতি অনুসরণে অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরেরও অনাপত্তি পত্র পাওয়া যায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা জেলা প্রশাসক সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে ওই জমি অধিগ্রহণের জন্য সুপারিশসহ ভূমি মন্ত্রণালয়ের মতামত পাঠায়, সরকারের কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটিতে কলাবাগান থানার জন্য শূন্য দশমিক ২০ একর জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসক জমির ক্ষতিপূরণ মূল্য বাবদ ডিএমপি পুলিশ কমিশনার বরাবর ২৭,৫৪,৪১,৭১০/৯২ টাকার প্রাক্কলন পাঠালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ওই টাকার ব্যয় মঞ্জুরি পাওয়া যায় এবং জেলা প্রশাসক বরাবর প্রাক্কলিত টাকা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।

ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) ফারুক হোসেন জানান, চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সরেজমিনে ডিএমপিকে ওই জমির দখলভার হস্তান্তর করেন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা, ভূমি অধিগ্রহণ শাখা-০৪, অধিগ্রহণ মামলা নং-০৪.২০.০৮/২০১৯-২০২০ কলাবাগান থানার শূন্য দশমিক ২০ একর জমি অধিগৃহীত ও দখল হস্তান্তর বিষয়ে বাংলাদেশ গেজেটের ষষ্ঠ খণ্ডে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। তিনি আরও জানান, গত ২৭ মার্চ ওই জমির নামজারি ও জমাভাগকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

পুলিশের ব্যাখা পাওয়ার পর সচেতন নাগরিক সমাজের অনেকে বলছেন, সরকার এলাকাবাসীর দাবি মানতে চায়নি। সব প্রক্রিয়া শেষ করে পুলিশ দখলে যায়।

কিন্তু ফেসবুকে একটি লাইভ ও মা-ছেলেকে আটকের খবরে তোলপাড় হয়। তারপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অন্যত্রে জায়গা খুঁজতে বলেন।

তবে এখনো পুলিশ বলছে জায়গাটি বৈধভাবে তারা নিয়েছে।

এদিকে ৩৭ নাগরিক দাবি করেছেন তেতুঁলতলা মাঠ মাঠই থাক, সরকার অন্যত্রে পুলিশ ভবন নির্মাণের জায়গার ব্যবস্থা করুক।

 

 

আপনার মতামত লিখুন :